রংপুরে জামিনে মুক্ত হয়ে ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে নারীকে হুমকি

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৩ | আপডেট: ৩:৪০ অপরাহ্ণ,

হীমেল কুমার মিত্র: রংপুরের বদরগঞ্জে ধর্ষন মামলার আসামী জামিনে ছাড়া পেয়ে বাদীনিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে মানষিক চাপ সহ বাদীনির আশ্রয়দাতা কে মারপিট ও বাড়ীঘর ভাংচুরের হুমকি দেন আসামীর পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় ধর্ষন মামলার বাদীনির ও বাদিনীর আশ্রয়দাতার নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এক অসহায় বিধবা মহিলা।

 

জানা যায়, উপজেলার বদরগঞ্জ পৌরসভার শংকরপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মোস্তাফিজার রহমান ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাভের ভাদ্রপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর সুন্দরী মেয়ে ইরিনা জান্নাত ইভাকে পছন্দ ও ভালবেসে বিবাহ করেন। তাদের সুখের সংসারে তাহমিদ রহমান(০৮) নামে একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। তাদের সুখের সংসারে স্বামীর আপন ভাই ও দেবর লিতুন মিয়া কালহয়ে ডুকে উভয়ের মাঝে সন্দেহ সহ সংসার ভাঙ্গনের জন্য পরিকল্পিতভাবে উঠে পড়ে লাগেন। ভাই ভাবীর মধ্যে সংসারিক ছোট খাটো ঝগড়াকে কেন্দ্র করে সুই হয়ে সুযোগ নেয় দেবর। সংসারের অশান্তি ও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ভাবীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষনের পদ বেচে নেয় দেবর। ঘটনা জানাজানি হলে স্ত্রী সন্তানকে বাড়ী থেকে বের করে দেয় স্বামী।কোন উপায় না পেয়ে কোলের সন্তান নিয়ে ঠাকুরগাওয়ে বাবা মায়ের বাড়ীতে চলে যান ইভা। বাবা মা ও এলাকার লোকজন এ সব জানার পর ওখানেও মানুষের কটুবাক্য অতিষ্ঠ হয়ে আবার স্বামী বাড়িতে ফিরে আসেন, ইতিমধ্যে স্বামী একতরফা তাকে তালাক দিয়ে দেন। এমতাবস্থায় দুইকুল হারিয়ে এক সন্তানের জননী দেবরের বাড়ীর দরজায় অনশন শুরু করেন। অনশন চলাকালীন গভীর রাতে আবারো দেবর তাকে বিয়ের কথা বলে ধর্ষন করে দরজার তালা ঝুলে দিয়ে বাড়ী থেকে পালিয়ে যান। থানায় উপস্থিত হয়ে দেবরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা নং১৪ তাং ১৪,০১,২৩ইং। ধর্ষন মামলার পলাতক আসামি কে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেন র‍্যাব -১৩। ধর্ষন মামলা পরিচালনা সহ বাদী তার ছেলের অধিকার সুত্রে ছেলের বাড়িতে থাকার চেষ্টা করিলে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়নি। বাদিনীর স্বামী মোস্তাফিজার জানান, আমার স্ত্রী ও আমার আপন ভাই দুজনে মিলে আমার সুখের সংসার ভেঙে দিয়েছে, আমার একমাত্র সন্তানকে এতিম করেছে , ওকে ভাই পরিচয় দিতে আমার লজ্জা হয়, তাদের নোংরামির কারনে তাকে তালাক দিয়েছি, ও আমার এখন স্ত্রী নয়। বাদীনি ইভা জানান, মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহে ও সাক্ষী প্রমান করতে যেন না পারি এ জন্য আসামী ও আসামীর পরিবারের লোকজন এ উপজেলা থেকে আমাকে তাড়ানোর জন্য হুমকি ধামকি ও একের পর এক চক্রান্ত করে আসছেন।

 

আসামি পক্ষের ভয়ে কেউ আমাকে ও আমার সন্তানকে আশ্রয় দেওয়ার সাহস না পাওয়ায় আপন ফুফু শাশুড়ী তার বাড়ীতে আমাকে আশ্রয় দেন, সেখানে আমাকে ও আমার সন্তানকে তাড়ানোর জন্য ধর্ষন মামলার আসামী ও তার পরিবারের লোকজন আমাকে ও আমার সন্তান সহ আমার ফুফু শাশুড়ী কে মেরে ফেলার হুমকি ও তার ঘরবাড়ী ভেঙে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় বাদীনির আশ্রয়দাতা ফুফু শাশুড়ী হাসিনা থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত সোমবার ( ০৮,০৫,২৩ইং) ধর্ষন মামলার বাদীকে আশ্রয় দেওয়ায় আসামী ও আসামীর বাবা মা আশ্রয়দাতাকে হুমকি দেন বলে বিধবা হাসিনার অভিযোগের বিষয়ে ডিউটি অফিসার সাইফুর জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ধর্ষন মামলার তদন্তকারী অফিসার শফিউল্ল্যাহ আববাস জানান, শ্রীঘই এ মামলার চাজসিট আদালতে প্রদান করা হবে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *