নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জ-এর ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণের সময় তাঁর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। পরে ওই মোবাইল থেকে সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি দিয়ে আসছে।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আল আমিন ওরফে জিতুর নাম উঠে এসেছে। এছাড়া এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন ড্রাইভার কবির হালদার (৩৯), লতিফ সিদ্দিকী রতন (৩৩), সাব্বির আহমেদ (৩০), ইব্রাহিম খলিল (৩১) এবং ইমরান হোসেন মোহন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূলহোতা জিতুসহ কয়েকজন এখনও পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহাগ জানান, অপহরণের সময় তাঁর দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় আসামিরা। পরবর্তীতে সেই ফোন থেকে ব্যক্তিগত ছবি, ডকুমেন্ট এবং যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে তাঁকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে অনলাইনভিত্তিক ব্ল্যাকমেইল শুরু করে চক্রটি।
তিনি আরও বলেন, “চক্রটি বিভিন্ন সময় সাংবাদিক, ক্রাইম রিপোর্টার বা অনলাইন মিডিয়াকর্মী পরিচয়ে যোগাযোগ করে। ভুয়া নাম ব্যবহার করে বারবার মেসেজ পাঠানো হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না দিলে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি—বিশেষ করে মালয়েশিয়া ভিত্তিক—একাধিক নম্বর ব্যবহার করে কল ও মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই হয়রানি চালানো হচ্ছে।
ঘটনার পর সোহাগ ইতোমধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং জেলা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর, মেসেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুন সরকারি তোলারাম কলেজ-এর সামনে থেকে মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তানিয়া আহম্মেদ ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জিতুকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দীর্ঘদিনের এই ব্ল্যাকমেইল ও হুমকির কারণে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার চরম মানসিক চাপে রয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি ৪ থেকে ৫টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির কার্যক্রম ও নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।