অবসরে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক সুবিধা ও প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হওয়া বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম। তিনি অবসরের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে সকল বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ পরিশোধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বেসরকারি শিক্ষকরা। তারা জীবনের মূল্যবান সময় শিক্ষার্থীদের জ্ঞানদান ও দেশ গঠনের কাজে ব্যয় করেন। কিন্তু কর্মজীবনের শেষে অবসরে যাওয়ার পর নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষক অবসরের পর বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, চিকিৎসা ব্যয় এবং পারিবারিক দায়-দায়িত্ব মোকাবিলায় আর্থিক সংকটে পড়েন। অথচ তাদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ সময়মতো প্রদান করা হলে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন। দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষকদের মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব আরও বলেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার কথা সরকার প্রায়ই বললেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং অনেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পান না।
এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিল ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাই ও অর্থ ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়াকে সময়সীমার মধ্যে আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবসরের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সকল প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হোক।
বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, “যারা সারা জীবন জাতি গঠনের কাজে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন, অবসরের পর তাদের ন্যায্য পাওনার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে—এটি কোনো সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারে না। শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় তাদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”