বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয়তাবাদী শক্তির অবিসংবাদিত ও আপসহীন এই নেত্রী ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়ির নয়াবস্তিতে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের সময় পরিবারের দেওয়া নাম ছিল ‘শান্তি’, পরে ডাকনাম হয় ‘পুতুল’।
শৈশব ও কৈশোর কাটানোর পর ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পরিবারসহ পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বন্দি হন এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তি পান।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে আরও দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবনে অন্তত ১১ বার কারাবাসসহ নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের সময় ও পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিক মামলায় কারাবন্দি হন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হলে দীর্ঘদিন চিকিৎসাবঞ্চিত জীবন কাটান। ২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি সম্পূর্ণ মুক্তি পান।
জন্মদিনের কর্মসূচি
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার জন্মদিনে কেক কাটা বা আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন থাকবে না। তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় আজ শুক্রবার দেশব্যাপী মসজিদ ও দলীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেলা ১১টায় মিলাদ মাহফিলে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। একই সঙ্গে ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের আশু সুস্থতার জন্যও বিশেষ দোয়া করা হবে।