নিউজ ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী ও আসন নিয়ে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে বিএনপি।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মিত্রদের সঙ্গে নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে আলোচনা করছেন। ইতোমধ্যে ৪২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন বর্জন করা আরও ২২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, বিগত সময়ে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, "তারেক রহমান মিত্রদের কথা শুনছেন, তাদের সঙ্গে ঐক্য ধরে রাখতে চান এবং নির্বাচনে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেবেন।"
গত শুক্র ও শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতারা। সেখানে তারেক রহমান বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। এখন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।”
মিত্র রাজনৈতিক দলের নেতারাও বৈঠকে আগামী নির্বাচনে বিএনপির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় ও যোগ্য নেতাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মোট ৬৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণফোরাম, গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), লেবার পার্টি, ন্যাপ ভাসানী, আমজনতা দলসহ আরও কয়েকটি দল।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, রোডম্যাপ ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এক ধাপ এগিয়েছে। এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও ঐক্য ধরে রাখা। এ লক্ষ্যেই নিয়মিত বৈঠক ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির এ সংলাপ আসন্ন নির্বাচনের মাঠে রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও দৃঢ় করে তুলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।