হাজী হালিম রাজ, চেয়ারম্যান, এনআরপি:
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন বক্তব্য সামনে এসেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের "পরম বন্ধু" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের বক্তব্য শুনে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন সামনে আসে, ইতিহাসের আলোকে আমরা বন্ধুত্বকে কীভাবে মূল্যায়ন করব?
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে ইতিহাসে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলেও, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ চলাকালে তাদের নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আজও ইতিহাসের অংশ।
একই সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতিতে বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ, যুদ্ধ এবং মানবিক সংকটের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা রয়েছে। তাই কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা এক বিষয়, আর তাকে "পরম বন্ধু" হিসেবে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। বন্ধুত্ব হতে পারে, সহযোগিতাও হতে পারে, কিন্তু সেই সম্পর্ক যেন কখনোই ইতিহাসের শিক্ষা ও জাতীয় আত্মমর্যাদাকে ছাপিয়ে না যায়।
আজও আমরা দেখি, স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কখনো এমন কর্মকাণ্ড বা আয়োজন দেখা যায়, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে জনগণের মনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, যে স্বাধীনতার জন্য লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন, সেই ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব।
জাতীয় সংসদ, জাতীয় প্রেসক্লাব কিংবা অন্য যেকোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠান শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; এগুলো আমাদের রাষ্ট্রের মর্যাদা ও জাতীয় চেতনার প্রতীক। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত যেকোনো কার্যক্রমে দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা এবং জনগণের অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
রাজনীতি বদলাবে, সরকার বদলাবে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কও বদলাবে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এবং জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে আমাদের অবস্থান কখনো বদলানো উচিত নয়। কারণ যে জাতি নিজের ইতিহাসকে সম্মান করতে জানে না, ভবিষ্যৎও তাকে সম্মান করে না।