রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার রাত ঠিক ১২টা ০১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, একুশে উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান ও সদস্যসচিব সাইফুদ্দীন আহমেদ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনারে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় ভাষা শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদ, চব্বিশের আন্দোলনের শহীদ, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
কালো পাঞ্জাবি পরিহিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বেদীতে দাঁড়িয়ে দোয়ায় অংশ নেন। পরে তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিসভা ও বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাত ১২টা ২১ মিনিটে তিনি শহীদ মিনার ত্যাগ করেন।
এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনের নেতৃত্বে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারাও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং মোনাজাতে অংশ নেন। পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকরাও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব আলাদাভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সিন্ডিকেট ও সিনেট সদস্যদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তখন নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে অপেক্ষমাণ হাজারো মানুষ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে একে একে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায় তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। এতে সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ বহু মানুষ শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায় এবং সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এবার ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নানা আয়োজনে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।