বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীতে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় ঐক্য সংযোগ পরিষদের এক বর্ধিত বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐক্য সংযোগ পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএলডিপি)’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে সভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ বলেন, “জুলাই সনদকে পূর্ণতা দিতে গণভোট অবশ্যই নভেম্বর মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এটি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নীতিগত বাধ্যবাধকতা—এটাই এখন সময়ের দাবি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোট দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে দৃঢ় করবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় ঐক্য সংযোগ পরিষদের সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএনডিপি)’র চেয়ারম্যান শফিক মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি জাতীয় চুক্তির অংশ। তাই নভেম্বরের সময়সীমা মানা অত্যাবশ্যক।”
সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—
এস. এম. মুস্তাফিজুর রহমান (মাস্তাক সরকার), চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জনতা পার্টি;
মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ নূর, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ নতুন ধারা জনতা পার্টি (বিএনজেপি);
কে. সি. মজুমদার (খোকন), সভাপতি, বাংলাদেশ লিবারেল গ্রীন পার্টি;
আওরঙ্গজেব কামাল, সভাপতি, আন্তর্জাতিক প্রেস ও ঢাকা প্রেস ক্লাব;
আবুল কাশেম মজুমদার, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি;
এম. এ. ইউসুফ, সভাপতি, বাংলাদেশ পিপলস পাওয়ার পার্টি (বিপিপিপি);
মুক্তিযোদ্ধা এ. টি. এম. মমতাজুল করিম, চেয়ারম্যান, জাতীয় মুক্তিদল পার্টি;
হারুনুর রশীদ দুলাল, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি;
মোঃ সিদ্দিকুর রহমান খান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি;
এছাড়া বিএনডিপির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মনোয়ার হাসান, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ আমান উল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব প্রফেসর বরহান উদ্দিন রাব্বানী, সংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. এনায়েত করিম, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মিসেস সানজিদা ইসলাম এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাংবাদিক দেবাশীষ রায় বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজন সময়ের অনিবার্য দাবি। তারা বলেন, দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে গণভোটের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় অংশগ্রহণকারী নেতারা সকল রাজনৈতিক দলকে গণভোট বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।