🕘 স্টাফ রিপোর্টার | গোপালগঞ্জ | ১৭ জুলাই ২০২৫
জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের সাথে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় ছাত্রলীগের চার সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৮টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন।
সকালে এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচি ঠেকাতে গোপালগঞ্জ শহরের প্রবেশ পথে ছাত্রলীগ সড়ক অবরোধ করে। এক পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে তারা পুলিশ ও টিইউনোর গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
দুপুর ১টার দিকে সকল বাধা উপেক্ষা করে শহরের পৌর পার্কে এনসিপির পূর্বঘোষিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন: "গোপালগঞ্জেই মুজিববাদের কবর রচনা করা হবে।" তাদের এ বক্তব্য ঘিরে রাজনীতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সমাবেশ শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়ি বহর দুই দফা হামলার শিকার হলে তারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সশস্ত্র ট্যাংক নিরাপত্তায় তাঁদের খুলনা সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেওয়া হয়।
একই সময়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা সমাবেশস্থলের চেয়ার ও মঞ্চ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। অপরদিকে, সন্ধ্যার আগমুহূর্তে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। কারাগারের বাইরে থাকা গাড়ি ও জানালায় ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে কারারক্ষীদের প্রতিরোধে হামলাকারীরা পিছু হটে।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী দফায় দফায় গুলিবর্ষণ, কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনা সদস্য এনে যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
দিনব্যাপী সংঘর্ষে ছাত্রলীগের ৪ জন নিহত হন, আহত হন আরও অনেকেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত ৮টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন।
ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার করে দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। সারা দেশের মানুষ টেলিভিশনের চোখ রাখেন।