যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় এবং প্রয়োজনে কঠোর পথেও যেতে প্রস্তুত—এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে কত ব্যয় হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আপাতত অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়াই মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন,
“আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু করতে যাচ্ছি—তারা এটা পছন্দ করুক বা না করুক। কারণ আমরা না করলে রাশিয়া কিংবা চীন সেখানে প্রভাব বিস্তার করবে। আমরা চাই না রাশিয়া বা চীন আমাদের প্রতিবেশী হোক।”
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে ট্রাম্প জানান, তিনি বিষয়টি সহজ উপায়ে সমাধান করতে চান। তবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্ভব না হলে কঠিন পথেও যেতে তিনি প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দেন।
গ্রিনল্যান্ড কেন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া প্রয়োজন—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন,
“মালিক হলে আমরা সেটি রক্ষা করতে পারব। লিজ নেওয়া জায়গাকে সেভাবে রক্ষা করা যায় না।”
এর আগেও একাধিকবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার কথা বলেছেন ট্রাম্প। চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত বছরের মার্চে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে গ্রিনল্যান্ড একসময় স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরবর্তী সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ৬ জানুয়ারি রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সব সময়ই খোলা থাকে। পরদিন ৭ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে তার সহযোগীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন।
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালে ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে কোনো আগ্রাসন হলে দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।