পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে, সবই সৃষ্টিকর্তার পূর্বনির্ধারিত মহাপরিকল্পনার অংশ। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানও সেই মহাপরিকল্পনারই একটি অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, "চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কোনো একক 'মাস্টার মাইন্ড' নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহল নিজেদেরকে জুলাই-আগস্টের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টার মাইন্ড হিসেবে দাবি করছেন। এটি ইতিহাসের প্রকৃত চিত্রকে বিকৃত করার শামিল।"
ইয়ারুল ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, "একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব যেমন দীর্ঘদিন ধরে একটি দল এককভাবে দাবি করে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছে, তেমনি এখন একটি মহল চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজেদের একার বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এটি ইতিহাসের সঙ্গে সুবিচার নয়।"
তিনি আরও বলেন, সময়ের প্রয়োজন, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষাপটেই জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এতে দেশের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল, যা কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, "একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন দল-মত নির্বিশেষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তেমনি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেও নানা রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, পেশাজীবী এবং সাধারণ জনগণ একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিলেন।"
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের বাইরে দেশের অধিকাংশ মানুষ গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে দেশের অসংখ্য পরিবার নানাভাবে সংহতি প্রকাশ ও সহযোগিতা করেছে। "তাদের এই অবদান কখনোই অস্বীকার করা যাবে না," বলেন তিনি।
ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ইতিহাসকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং জাতির সম্মিলিত সংগ্রামের দলিল হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এবং জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।