নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কদমতলী, শ্যামপুর, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর প্রায় ১টা পর্যন্ত রাজধানীর নগর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন। এ সময় দুই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও অংশ নেন।
বৈঠকে কদমতলী ও শ্যামপুর এলাকার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ উন্নয়ন, শিশু-কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ সৃষ্টি এবং মাদকের বিস্তার রোধসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সংসদ সদস্যরা মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় সাধারণ মানুষ নিত্যদিনের নাগরিক সমস্যার সমাধান পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশনের সেবা গ্রহণে কার্যকর সমন্বয়ের অভাবে ভুক্তভোগী মানুষ তাদের সমস্যার সমাধানের জন্য সংসদ সদস্যদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে ডিএসসিসিকে অধিক সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় সংসদ সদস্যরা বলেন, সাময়িক ব্যবস্থা নিয়ে এত বড় জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ দূর করা সম্ভব নয়। জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে খাল উদ্ধার ও পুনঃখনন এবং আধুনিক ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বৈঠকে উত্থাপিত সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং চলমান বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর পরিকল্পনা এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এলাকাগুলোকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।