নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ভোটের মাঠে এবার নেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলটি। ফলে বিএনপি এককভাবে এগিয়ে থাকলেও তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একসময়ের চারদলীয় জোটের অংশীদার জামায়াতে ইসলামী।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি ইতিমধ্যে নির্বাচনি কৌশল পুনর্গঠন করেছে। শুরুতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির পরিকল্পনা থাকলেও তা বাড়িয়ে সারা দেশে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, “আগামী নির্বাচন হবে সবচেয়ে কঠিন। জনগণের কাছে যেতে হবে, জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে।”
জামায়াতের পাল্টা মেরুকরণ
আওয়ামী লীগহীন রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি (একাংশ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে জোট বাঁধার চেষ্টা করছে তারা। সংখ্যানুপাতিক ভোটপদ্ধতি (পিআর), সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি সামনে রেখে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই উদীয়মান জোট।
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অপ্রত্যাশিত বিজয় জামায়াতকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় মনে করছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের সাফল্য জাতীয় নির্বাচনের ‘অ্যাসিড টেস্ট’ হিসেবে কাজ করবে এবং এই ধারা ধরে রাখতে পারলে জাতীয় নির্বাচনে “মিরাকল” ঘটানো সম্ভব।
বিএনপির অবস্থান
বিএনপি যদিও এখনো নতুন কোনো নির্বাচনি জোটের ঘোষণা দেয়নি, তবে স্বৈরাচারবিরোধী সমমনা দলগুলোকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছে। আসন সমঝোতাও বিবেচনায় আছে। তারেক রহমান ইতিমধ্যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন। বিএনপি মনে করে, জনগণের সমর্থনেই এই কৌশল তাদের বিজয় এনে দেবে।
বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। আবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে নির্বাচনি সমঝোতারও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ইসলামপন্থিরা শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করতে পারে, তবে বিএনপির বিপরীতে বিকল্প শক্তি গড়ে উঠতে সময় লাগবে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও অভিন্ন ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে, যদিও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
সব মিলিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ নতুন রূপ নিচ্ছে। বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জের নাম জামায়াত, আর জামায়াতের জন্য সুযোগ—ক্ষমতার কেন্দ্রে নতুন করে জায়গা করে নেওয়া। এই দুই শক্তির পাল্টাপাল্টি কৌশল শেষ পর্যন্ত কোন পথে রাজনীতিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।