স্টাফ রিপোর্টার | জুরাইন, ঢাকা:
রাজধানীর জুরাইন বাজারে প্রবেশের একমাত্র প্রধান সড়কটি এখন যেন এক দখলদার ও চাঁদাবাজ চক্রের করাল গ্রাসে পড়েছে। সরু রাস্তার পাশে ছোট ছোট অস্থায়ী দোকান আর ভ্রাম্যমাণ হকারদের পসরা সাজানো থাকায় বাজারে প্রবেশ যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি ফিরতি পথও হয়ে ওঠে এক রকম বিভীষিকা।
প্রবেশপথ দখল: হাঁটা দায়:
প্রবেশপথটি এমনিতেই সরু, তার উপর গজিয়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান। দর্জি, কাপড়, প্লাস্টিক সামগ্রী সহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন দোকানিরা। বাজারে আসা হাজারো ক্রেতার হাঁটার পথ নেই বললেই চলে। বাজার করতে এসে বয়স্ক নারী-পুরুষ, শিশুসহ সাধারণ মানুষকে ধাক্কাধাক্কি করে এগোতে হয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন,
> "সকাল বেলা বাজারে আসি, কিন্তু ঢুকতেই পারি না ঠিকমতো। দুই পাশে এত দোকান, একটুও জায়গা নাই। অনেকে আবার ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।"
বৃষ্টি মানেই জলাবদ্ধতা
বাজার সংলগ্ন সড়ক ও বাজার চত্বরে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় হাঁটু পরিমাণ পানি। এতে বাজারে ঢোকা তো দুরের কথা, বাজার ঘুরে কিছু কেনাকাটা করাই হয়ে ওঠে চরম দুর্ভোগের কারণ। ব্যবসায়ীরাও এর ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন।
স্থানীয় এক দোকানদার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,
> "বৃষ্টি হলেই দোকানে পানি ঢুকে যায়। আমরা নিজেরাই প্লাস্টিক দিয়ে দোকান ঘিরে রাখি, কিন্তু লাভ হয় না। বৃষ্টির পানি আর নর্দমার গন্ধে ক্রেতা আসে না।"
চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য:
অস্থায়ী দোকান মানেই নির্দিষ্ট চাঁদাবাজারে অস্থায়ী দোকান বা হকার বসতে হলে দিতে হয় নির্দিষ্ট চাঁদা। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংগঠিত চক্র এই চাঁদা আদায় করে থাকে — যাদের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছায়া রয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করা হয় দোকানপ্রতি।
এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
> “আমরা স্বল্প পুঁজির মানুষ। এখানে বসে বেচাকেনা করি বলে একটু আয় হয়। কিন্তু প্রতিদিন ২০০-৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। না দিলে দোকান ভেঙে ফেলে, মারধরও করে। কারো কিছু বলার সাহস নাই।”
প্রশাসনের নীরবতা: দায় এড়াতে ব্যস্ত
চাঁদাবাজি ও রাস্তা দখলের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নিকট বারবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। বরং মাঝে মাঝে লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা একদিনেই থেমে যায়, পরদিন আবার আগের চেহারায় ফিরে আসে বাজার।
জুরাইন বাজারের এই প্রবেশপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, সুনির্দিষ্ট হকার জোন নির্ধারণ এবং চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নতুবা বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ যেমন ফিরবে না, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ভোক্তা — দুই পক্ষই।