স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও রাজপথের ত্যাগী নেতা অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে মৌমিতা পরিবহন থেকে মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছে মৌমিতা পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
মৌমিতা পরিবহনের জিএমের কড়া প্রতিবাদ: এ বিষয়ে মৌমিতা পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আমিনুর রহমান তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন: টিপু সাহেবের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির যে কথা বলা হচ্ছে, এমন কোনো ঘটনার সত্যতা নেই। এটি আমাদের পরিবহন ও একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির মাঝে দূরত্ব তৈরির ষড়যন্ত্র। আমরা এই মিথ্যা অভিযোগ ও অসত্য নিউজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
‘বারবার টার্গেট হচ্ছেন টিপু’ এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, আওয়ামী লীগ ও ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকায় অ্যাডভোকেট টিপুকে বারবার টার্গেট করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতা বলেন, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে যিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, তাকে বিতর্কিত করতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তৃণমূল বিএনপি টিপুর সঙ্গেই আছে।
নেতাকর্মীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অবস্থান ধরে রাখতে স্বার্থান্বেষী একটি চক্র বিএনপির ভেতরে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। সেই চক্রের ইন্ধনেই টিপুর নামে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে এবং আজমেরী ওসমানের দোসর কেসিয়ার কালা বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতায় এই ষড়যন্ত্র করে আসছেন।
ভিন সূত্রে তারা আরো বলেন, যুবদলের শাহেদ এর সাথে এই কালার সখ্যতা আছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। কিভাবে বিএনপির লোকজন আওয়ামিলীগ এর সাথে এমন সম্পর্কে বিএনপির নামে অপবাদ দেয় তা লজ্জাজনক।
তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী মহল বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিক সদস্য জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া একজন আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো ফৌজদারি অভিযোগ তোলা গুরুতর অপরাধ।
এক সিনিয়র আইনজীবী বলেন, কারও মানহানি করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগকারীকে প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় ভুক্তভোগী মানহানির মামলা করতে পারেন। আইনের চোখে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না।
এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে রাজপথে আছি। ওসমান পরিবারের স্বেচ্ছাচারিতা ও আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। মৌমিতা পরিবহনের জিএম নিজেই যেখানে বলেছেন ঘটনা মিথ্যা, সেখানে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায়। নারায়ণগঞ্জের মানুষ সত্য জানে।
তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমি আইনজীবী, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেউ যদি এই অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারে, তবে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা অতীতেও হয়েছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বর্তমানে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ আছে এবং টিপুর নেতৃত্বেই রাজপথের আন্দোলন আরও বেগবান হবে।