শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) খুলনার ডুমুরিয়ায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের বারই কাটি গ্রামের গৃহিণী তরমুজ চাষী বিপাশা গাইনও এই সাফল্যের অংশীদার।
বিপাশা গাইন জানান, তিনি মাত্র ৩৩ শতক জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা, কিন্তু বিক্রির মাধ্যমে তিন লক্ষ টাকা আয়ের আশা করছেন। তিনি বলেন, “অল্প সময়ে ও কম খরচে তরমুজ চাষ থেকে ভালো লাভ পাওয়া যায়। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও প্রচুর হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে খুলনা জেলায় ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর বেশি। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৬ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে সরবরাহ করা হচ্ছে তরমুজ।
স্থানীয় কৃষক তরিকুল ও ফরহাদ জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে তারা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। অপর কৃষক রাসেল বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে কোনো রোগবালাই হয়নি। ফলে ফলনও বেড়েছে।
শোভনা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রিমা মন্ডল জানান, এ ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং তারা যথেষ্ট যত্নসহকারে গাছের পরিচর্যা করেছেন। এর ফলে ভালো ফলন এসেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, “তরমুজ চাষে খরচ কম, সময়ও কম লাগে, কিন্তু লাভ হয় বেশি। তাই কৃষকরা দিন দিন তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। আমরা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। আশা করছি তারা এবার যথেষ্ট লাভবান হবেন।
ডুমুরিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন তরমুজ আর তরমুজ। মাঠ থেকে শহরের বাজার পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে মৌসুমী ফলের রঙিন উৎসব।