মোঃ রাসেল কবির:
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসা সংকট এখন চরমে। সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনে জানতে চাওয়া প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার স্বাক্ষরিত নথিতে জানানো হয়েছে, কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪,৫৯০ হলেও বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ৭,৮৪৮ জন। অথচ এত বিপুল সংখ্যক বন্দির চিকিৎসায় রয়েছেন মাত্র ১ জন ডিপ্লোমা নার্স, ৪ জন সহকারী সার্জন ও ১ জন ফার্মাসিস্ট। এমন পরিসংখ্যান শুধু হতবাক করার মতো নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি নির্মম উদাহরণ।
এই তথ্যের মধ্য দিয়ে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার ভয়াবহ দৈন্যদশা যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি কারা প্রশাসনের চরম দায়িত্বহীনতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
[caption id="attachment_11168" align="alignnone" width="300"] ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পাঠানো তথ্যের কপি[/caption]
সিনিয়র জেল সুপার নিজেই স্বীকার করেছেন যে, প্রায় ৮ হাজার বন্দির জন্য একজন মাত্র নার্স রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে — তাহলে তিনি এ বিষয়ের সমাধানে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন? নাকি কারাগারে এই অমানবিক অবস্থা চলছে জেনেও নীরব থেকেছেন তিনি? একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে তার কাজ শুধু তথ্য জানানো নয় — অবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ ও সুপারিশ পাঠানো। কিন্তু এ বিষয়ে তার ভূমিকায় গভীর প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে।
স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবায় একজন নার্সের দায়িত্বে গড়ে ২০-২৫ জন রোগী থাকাই গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। সেখানে একজন মাত্র নার্সকে প্রায় ৮ হাজার বন্দির স্বাস্থ্যসেবা সামলাতে বলা নিঃসন্দেহে একটি অসম্ভব ও অব্যবস্থাপনামূলক চিত্র। এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ বন্দিদের যথাসময়ে চিকিৎসা পাওয়া তো দূরের কথা, বরং তাদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
কারাগারে নানা ধরনের মানুষ থাকে—বয়স্ক, মানসিকভাবে অসুস্থ, মাদকাসক্ত, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কিংবা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা বন্দি। এদের প্রত্যেকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একজন নার্স দিয়ে এই দায়িত্ব পালন একপ্রকার অসম্ভব।
জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস অনুযায়ী, বন্দিদের ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার। এমন পরিস্থিতিতে একজন নার্সের কাঁধে পুরো কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসা দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া কেবল দায়িত্বহীনতা নয় — এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সিনিয়র জেল সুপার একটি অফিসিয়াল তথ্য দিয়ে তার দায়িত্ব শেষ করেছেন — এটি কোনও সমাধান নয়। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসক--নার্সের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য জোরালো অনুরোধ বা আবেদন করেছেন কিনা এই বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে দাড়িয়ে বারবার ফোন করে, মোবাইলে ক্ষদে বার্তা পাঠিয়ে স্বাক্ষাৎ এর অনুমতি চাইলেও সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার এই প্রতিবেদককে সাক্ষাৎ দেননি।