শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শাঁখারীবাজার, রায়সাহেব বাজার, ন্যাশনাল হাসপাতাল হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্বজিৎ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা সমাবেশ করেন।
সমাবেশে আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান বলেন, নরসিংদীতে যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে তা নতুন নয়। জুলাই-পরবর্তী সময়েও সারাদেশে সহিংসতা বন্ধ হয়নি। মানুষের ন্যূনতম জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও পুলিশ প্রশাসন এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ। ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনায় পুলিশ নীরব থাকে, অথচ সাধারণ মানুষের ওপর মোরাল পুলিশিং চালানো হয়। গত দেড় বছরে সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের ন্যূনতম বাঁচার অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্তা আক্তার বলেন, নরসিংদীর ধর্ষণের ঘটনায় প্রথমবার অপরাধের বিচার হলে দ্বিতীয়বার এমন নৃশংসতা ঘটত না। ধর্ষকের কোনো দল-মত নেই। অনতিবিলম্বে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আমরা পাঁচ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র চেয়েছিলাম। ধর্ষণ ও নিপীড়নমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় সহিংসতা বেড়েই চলেছে। পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। পোশাক বদলেছে, কিন্তু চরিত্র বদলায়নি। বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমরা এক জুলুমতন্ত্রের পরিবর্তে আরেক জুলুমতন্ত্রকে মেনে নিচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও বিচার হয়নি। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না করে শুধু বহিষ্কারের মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে, যা কখনোই দণ্ডবিধির শাস্তির বিকল্প হতে পারে না। এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক অধ্যায়।
তিনি আরও বলেন, আজ আমরা কথা বলছি, কিন্তু কাল আমাদের লাশ নদীতে পাওয়া গেলে সেই হত্যার বিচার হবে কি না—এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। আমরা নরসিংদীর নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডসহ সারাদেশের সব ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।