পুশইন আগ্রাসন ও জনবিরোধী বাজেট প্রসঙ্গে মুক্তিজোটের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

ভারতের সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক পুশইনের (অনুপ্রবেশ) নগ্ন আগ্রাসন এবং দেশের সরকার কর্তৃক ঘোষিত গণবিরোধী, ঋণনির্ভর ও লুটেরা বাজেট প্রত্যাখ্যান করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মুক্তিজোট।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)-এর সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোাঃ শাহজামাল আমিরুল ৯ই জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “বাইরে ভৌগোলিক আগ্রাসন আর ভেতরে অর্থনৈতিক শোষণ এই দুই সাঁড়াশী অভিযানের মুখে আজ দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অস্তিত্ব বিপন্ন।”
ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীর ন্যূনতম মর্যাদাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলাদেশে জোরপূর্বক কথিত অনুপ্রবেশকারীদের ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ কোনো দেশের বর্জ্য ফেলার জায়গা নয়। দিল্লির এই একপাক্ষিক নীতি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। ক্ষমতার লোভ ও দিল্লির তোষণ নীতির কারণে বর্তমান সরকার এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে টু শব্দ করার সাহস পাচ্ছে না। এই মেরুদণ্ডহীন পররাষ্ট্রনীতি দেশের সার্বভৌমত্বকে কারও পায়ে বন্ধক রাখার শামিল। আমরা অবিলম্বে সীমান্তে বিজিবির (BGB) ‘শুট অন সাইট’ (Shoot on sight) বা কঠোর প্রতিরোধ নীতি ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।
চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘অর্থনৈতিক গণধোলাই’ ও ‘লুটেরাদের উৎসব’ আখ্যা দিয়ে মুক্তিজোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, এই বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার এক নীল নকশা। দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর দাঁড়িয়ে যে বিশাল ঘাটতি বাজেট দেওয়া হচ্ছে, তার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে সাধারণ জনগণকে। দ্রব্যমূল্যের আগুনে সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস উঠছে, তখন এই বাজেট মূল্যস্ফীতিকে আরও উস্কে দিয়ে জনগণকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার।
সৎ করদাতাদের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে, অন্যদিকে চোর-লুটেরা আর পাচারকারীদের কালো টাকা সাদা করার অনৈতিক সুযোগ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তাঁরা বলেন এটি কোনো স্বাধীন দেশের বাজেট হতে পারে না, এটি মূলত একটি অর্থনৈতিক অপরাধী চক্রের পকেট ভরার দলিল।
বিবৃতিতে মুক্তিজোটের নেতৃবৃন্দ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে আপামর জনতাকে এই শোষণের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে ৩ দফা দাবি পেশ করেছেন:
১. ভারতের পুশইন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, সরকারকে অবিলম্বে কড়া ভাষায় আলটিমেটাম দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে।
২. সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার করে একটি উৎপাদনমুখী ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।
৩. কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল করে সব অর্থপাচারকারী ও ব্যাংক ডাকাতদের সম্পত্তি রাষ্ট্রীয়করণ করতে হবে।