মোঃ জামান, নারায়ণগঞ্জ:
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন প্রিমিয়ার সিমেন্ট এর ডাইস এর কারণে আজ পরিবেশ দূষণের ভয়াবহ থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার গোগনগর ইউনিয়ন বাসিন্দা ও সেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন।
মানববন্ধনে স্থানীয়দের অভিযোগ করে বলেন, প্রিমিয়ার সিমেন্টের ডাইস অপরিশোধিত কারণে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি। শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, চোখের জ্বালা ও ফুসফুসজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের অধিকাংশ সময় প্রিমিয়ার সিমেন্ট ফ্যাুথেকে নির্গত ডাইস বাতাস ভারী হয়ে থাকে। অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও রেহাই মিলছে না। দূষণের প্রভাব পড়ছে শীতলক্ষ্যা নদীতেও। এই ক্ষতির অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী।
গোগনগর এলাকার বাসিন্দা ও গোগনগর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আফজাল হোসেন বলেন, সারাদিন প্রিমিয়ার সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ডাইস পরিবেশ দূষিত হয়। শিশুদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এলাকার ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট সব খানেই মানুষ স্বাস্থ্যের ঝুকিতে আছেন। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ আমাদের ডিসি, এসপি সহ নগর প্রশাসক ব্যবস্থা নিতে আমরা এলাকাবাসী অনুরোধ জানাই।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সিমেন্ট কারখানা বা সংশ্লিষ্ট ডাইস/শিল্প ইউনিট থেকে নির্গত ধুলাবালির জন্য জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এসব দূষণের ফলে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ফুসফুসের রোগ, চোখের জ্বালা, ত্বকের সমস্যা, কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস এবং নদী-খাল দূষণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে আবাসিক এলাকার কাছাকাছি শিল্পকারখানাগুলোতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, আধুনিক ধুলা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বর্জ্য শোধনাগার (ETP) এবং নিয়মিত পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারখানার নির্গত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ফিল্টার ও ডাস্ট কালেক্টর স্থাপন করতে হবে । অন্যথায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিল্পায়নের প্রয়োজন থাকলেও তা যেন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, নগর প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতি দ্রুত সরেজমিন তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, শিল্পায়ন দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, তবে মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির বিনিময়ে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। কর্মসংস্থান ও শিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও সমান গুরুত্ব পাওয়াই একটি সভ্য ও দায়িত্বশীল সমাজের পরিচয়।
সকলেই সচেতন হয়ে এগিয়ে আসলে শুদ্ধ সুন্দর বাংলাদেশ এর পরিবেশ শুদ্ধ হবে।