এম বাদল খন্দকার (বিশেষ প্রতিনিধি):
গত ১২ই অক্টোবর দৈনিক বাংলাদেশ কণ্ঠ পত্রিকায় "ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নব-দম্পতিকে তুলে নিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ" শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসি মোঃ মনজুর কাদের ভূইয়া। তিনি জানান, বাংলাদেশ কন্ঠ পত্রিকার সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা মাত্র। আমি এই মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
তিনি জানান, প্রকৃত ঘটনা হলো: গত ২৮ জুন ২০২৬ ইং তারিখে সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের চানমনি পাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান (১২) নিখোঁজ হয়। ওই দিনই তার মা সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নং- ১৪৪০, তারিখ- ২৮/০৬/২০২৬।
জিডির প্রেক্ষিতে পুলিশ নুসরাতকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। পরবর্তীতে গত ২১ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে বিজয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সরাইল থানার এসআই মোঃ শামীমের নেতৃত্বে একটি টিম বিজয়নগরের রসুলপুর এলাকায় হিরা আহমেদ জাকিরের বাড়ি থেকে তার ভাই শ্রাবণ মিয়াসহ ভিকটিম নুসরাতকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ৬ মাস ধরে শ্রাবণ মিয়া শিশুটিকে প্রেমের প্রলোভন ও পালিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুন স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় নুসরাত। পরবর্তীতে ১২ বছরের ওই শিশুকে কোর্টে বিয়ে করার নাটক সাজিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২১ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে ভিকটিমের মা লিজা বেগম বাদী হয়ে শ্রাবণ মিয়া ও হিরা আহমেদ জাকিরকে আসামি করে সরাইল থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
অথচ ১২ বছরের শিশু অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির নামে মামলা হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সরাইল থানার ওসি ও এসআই এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। প্রকাশিত সংবাদে "আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করার ১ মাস পর নব-দম্পতিকে রাত ৩টায় থানায় তুলে নিয়ে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে" বলে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ১২ বছরের শিশুর সাথে তথাকথিত কোর্ট ম্যারেজ আইনত বৈধ নয়।
এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ পুলিশের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি আশা করব, ভবিষ্যতে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে প্রকৃত সত্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করবেন।