নিজস্ব প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তরের নামে প্রচারিত একটি তথাকথিত ‘সরকারি ক্রয় আদেশ’ সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদ্য অধিদপ্তরের নামে একটি নথি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। ওই নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, ভারত থেকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির জন্য একটি সরকারি ক্রয় আদেশ জারি করা হয়েছে। নথিটিতে DGFOOD/IMP/RICE-IND/2026/1402 নম্বরের একটি স্মারকেরও উল্লেখ রয়েছে।
তবে খাদ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, উক্ত নথিটি সম্পূর্ণ জাল এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় কিংবা খাদ্য অধিদপ্তর থেকে এ ধরনের কোনো ক্রয় আদেশ জারি করা হয়নি। এছাড়া নথিতে ব্যবহৃত স্মারক নম্বর, তথ্য, ভাষা ও উপস্থাপনা সরকারি নথির প্রচলিত রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের ভুয়া নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল ধারণার জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্যশস্য আমদানি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে জনমনে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জনগণকে যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম, আদেশ কিংবা বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ওয়েবসাইট এবং সরকারি যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুয়া তথ্য প্রচার, গুজব ছড়ানো এবং সরকারি নথি জাল করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে গুজব ও ভুয়া নথি শনাক্ত করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল সূত্র অনুসরণ করা এবং যাচাইহীন তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার এবং অপপ্রচার ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।