শরীয়তপুর প্রতিনিধি: চরমোনাই পীরের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক আশিক মাদবর শরীয়তপুর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মনোনীত হয়েছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আক্তার হোসেন মাঝি সংবাদ সম্মেলন করে আশিক মাদবরের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এরআগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির অনুমতিক্রমে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে আশিক মাদবরের নাম ঘোষণা করা হয়। তার নাম ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন শরীয়তপুর জেলা শাখার কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আশিক মাদবর। এর আগে সে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর ২০২৪ সেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ২০২৫ সেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুল ও কলেজ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তিনি। সর্বশেষ ২০২৬ সেশনে দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে আশিক মাদবরকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি ইমন সরদার।
এদিকে, আশিক মাদবর এর ফেসবুক প্রোফাইলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক পদে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার বেশ কিছু ছবিও তার আইডিতে রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের রাজনীতি থেকে আসা একজন ব্যক্তিকে জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা।
তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আক্তার হোসেন মাঝি সংবাদ সম্মেলন করে আশিক মাদবরের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি বলেন, গত মাসে জেলা যুবদলের পাঁচ সদস্যের কমিটি হয়েছে। সেখানে আমাদের মতো ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। ভেবেছিলাম পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগীরা মূল্যায়ন পাবেন। কিন্তু আজ দেখলাম দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে এমন একজনের নাম এসেছে, যিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক ছিলেন। দলের এত ত্যাগী নেতাকর্মী থাকতে কীভাবে অন্য দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা একজনের নাম কমিটিতে আসে? এটা আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারি না। অনতিবিলম্বে তার নাম কমিটি থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
এ ব্যাপারে আশিক মাদবর বলেন, একটা সময় ইসলামী আন্দোলনের সাথে ছিলাম, পরে অব্যাহতি নিয়েছি। জুলাই যোদ্ধা হিসেবে দল আমাকে সম্মানিত করেছে আমি সেই সম্মান রাখতে চাই, ইনশাআল্লাহ।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন, ছেলেটি শিক্ষিত ও ভদ্র। তার যোগ্যতা বিবেচনা করেই কেন্দ্র থেকে তাকে দপ্তর সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি অন্য কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন এমন তথ্য আমি শুনিনি।