নিউজ ডেস্ক:
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় নারী ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র নারীদের আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে একাধিক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্প, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি এবং ভিজিডি কার্যক্রম।
কিশোর-কিশোরীদের জীবনদক্ষতা বৃদ্ধি, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় কিশোর-কিশোরীদের সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় এর বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত।
দরিদ্র মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য এবং পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সরকারি ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।
কার্যালয়ের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে প্রতি ইউনিয়নে মাসিক ছয়জন করে উপকারভোগীর হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে মোট ৮৪ জন এবং বছরে মোট ১ হাজার ৮ জন উপকারভোগীর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে মাসিক ও বার্ষিক উপকারভোগীর হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। কর্মসূচির আওতায় জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভাতা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। নথিতে মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
শ্রীনগর উপজেলায় দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ভিজিডি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যসহায়তা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সরবরাহ করা তালিকায় ১৩টি ইউনিয়নের উপকারভোগীর সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, রাঢ়ীখাল ইউনিয়নে ১১৮ জন, ইছাপুরায় ১০৫ জন, বাড়ৈখালীতে ৯৩ জন, বেজগাঁওয়ে ১০৫ জন, শ্রীনগরে ১২০ জন, ষোলঘরে ১০২ জন, ভাগ্যকূলে ১১৫ জন, তন্তরে ১২৩ জন, রায়পাড়ায় ১০২ জন, কোলাপাড়ায় ৯৫ জন, পাটাভোগে ১০৩ জন, আটপাড়ায় ৯৮ জন এবং কুকুটিয়া ইউনিয়নে ১২০ জন উপকারভোগীর নাম উল্লেখ রয়েছে।
তালিকায় উল্লিখিত সংখ্যাগুলোর যোগফল ১ হাজার ৩৯৯ জন। তবে এ সংখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির অনুমোদিত মোট উপকারভোগীর সংখ্যা কি না, তা নিশ্চিত হতে হালনাগাদ সরকারি তালিকা যাচাই করা প্রয়োজন।
ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার তথ্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বরাদ্দ করা চালের পরিমাণ ৪৫০ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন বলে উল্লেখ থাকলেও কোন সময়কালের বরাদ্দ, তা স্পষ্ট নয়।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে উপকারভোগীদের হালনাগাদ তালিকা, বরাদ্দের পরিমাণ, ভাতা ও খাদ্যসহায়তা বিতরণের হিসাব এবং কর্মসূচির বাস্তব অগ্রগতি নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ভিজিডি ও মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে অনুমোদিত উপকারভোগীর সংখ্যা, প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং সরকারি বরাদ্দের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।
শ্রীনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের এসব কর্মসূচির কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা মূল্যায়নে হালনাগাদ সরকারি নথি, বরাদ্দপত্র এবং বিতরণসংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।