ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই শুরু হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নিয়ে হিসাব-নিকাশ। প্রাপ্ত সাধারণ আসনের অনুপাত অনুযায়ী বড় দলগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের একটি প্রাথমিক চিত্র সামনে এসেছে।
নির্বাচন ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাচ্ছে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাচ্ছে ১১টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাচ্ছে ১টি আসন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি সাধারণ আসন। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন প্রত্যেকে ১টি করে আসন পেয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৭টি আসনে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের ফল প্রকাশ করেছে।
এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-১ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সংসদে দলটির প্রতিনিধির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৮ জন।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান অনুযায়ী, বিএনপির প্রাপ্য আসন দাঁড়াচ্ছে ৩৪ দশমিক ৬৬—অর্থাৎ মোট ৩৫টি। জামায়াতে ইসলামী পাচ্ছে ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আনুপাতিক হারে ১টি আসন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এনসিপিও পাচ্ছে ১টি আসন। তবে ছোট দলগুলো যদি নিজেদের মধ্যে জোট গঠন না করে, তাহলে তারা কোনো সংরক্ষিত নারী আসন পাবে না। জোট হলে একটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিএনপির আসন আরও একটি বেড়ে ৩৬টিতে পৌঁছাতে পারে।
সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারণের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতটি সাধারণ আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। তবে কিছু শর্তের কারণে এ সংখ্যা সামান্য এদিক-সেদিক হতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঈদের আগেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনের একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে নতুন তফসিল অনুযায়ী পরে ভোট গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সাধারণ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং আরও নয়টি দল ভোটে যায়নি।
সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ গঠন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।