স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর কাওলা এলাকায় এক সময়ের স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ নেতা আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব বিস্তার, মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গঠন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–তে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং নতুন পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বাড়ান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাওলা অটোস্ট্যান্ডসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি চক্র গড়ে তোলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে গেলে হুমকি ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাতের বেলায় কাওলা নামাপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, অলিগলিতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি এবং পথচারী ও রিকশাচালকদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে থানায় একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন পূর্বে এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও স্থানীয়রা বলছেন, পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
এ বিষয়ে দক্ষিণ খান থানা–র অফিসার ইনচার্জ বলেন, মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
গণঅভ্যুত্থানের পরও এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি কাটেনি বলে দাবি বাসিন্দাদের। প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।