আসাদুল শেখ নারায়ণগঞ্জ: জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’। ভূমি মন্ত্রণালয়–এর নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন নারায়ণগঞ্জ–এর উদ্যোগে আগামী ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
রবিবার (১৭ মে) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের ঝামেলাহীন দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই এ মেলার মূল লক্ষ্য।
মেলার প্রথম দিন ১৯ মে সকালে খানপুর হাসপাতাল সংলগ্ন উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।
একই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার ভূমি ভবনে কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশব্যাপী এ মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন। পরে স্থানীয়ভাবে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে জেলা পর্যায়ের মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে।
মেলা উপলক্ষে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৮ মে শিক্ষার্থীদের জন্য ভূমি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা,
১৯ মে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ২০ মে “Automated Land Management System: The Changes, Development and Way Forward” শীর্ষক সেমিনার
সেমিনারে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে।
মেলা প্রাঙ্গণে আগত নাগরিকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা পাবেন, যেমন:
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ই-নামজারি ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ, খতিয়ান সার্টিফায়েড কপি প্রদান, মৌজা ম্যাপ সহায়তা, অনলাইন ডিসিআর (DCR) প্রদান।
এছাড়া ই-নামজারি, ডিসিআর, খতিয়ান প্রাপ্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং ভূমিসেবার কল সেন্টার ‘১৬১২২’ ব্যবহারের বিষয়ে জনগণকে ধারণা দেওয়া হবে। দর্শনার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে ‘ভূমি আমার ঠিকানা’ শীর্ষক তথ্যবহুল বুকলেট।
প্রেস কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক বলেন, স্বচ্ছ, সহজ ও আধুনিক ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে এ মেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা চাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবার সুফল পান।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে ৫টি উপজেলা ভূমি অফিস, ৪টি রাজস্ব সার্কেল ও ৯টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে।
মেলার বার্তা সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে মসজিদ-মন্দিরে প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার প্রদর্শন ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের নাগরিককে মেলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।