অজ্ঞাত লাশ, হেফাজতে মৃত্যু ও মব সহিংসতা— মানবাধিকারে নতুন তিন সংকট

প্রকাশিত: 9:05 am, December 10, 2025 | আপডেট: 9:05 am,

অজ্ঞাত লাশ, হেফাজতে মৃত্যু ও মব সহিংসতা— মানবাধিকারে নতুন তিন সংকট
অজ্ঞাত লাশ, হেফাজতে মৃত্যু ও মব সহিংসতা— মানবাধিকারে নতুন তিন সংকট

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশে গত দেড় বছরে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম ও ক্রসফায়ারের অভিযোগ কমলেও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে নতুন তিনটি সংকট উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে— অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি, কারা ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু এবং মব সহিংসতা এখন দেশের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার চ্যালেঞ্জ।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) জানিয়েছে, শুধু অক্টোবর মাসেই পাওয়া গেছে ৬৬টি অজ্ঞাত লাশ, সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৫২টি। নদী, ডোবা, মহাসড়কের পাশে, সেতুর নিচে কিংবা ফসলি জমিতে পাওয়া এসব লাশের অনেকটিতেই আঘাত, রক্তাক্ত বা বস্তাবন্দি অবস্থার চিহ্ন রয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত শুধুমাত্র খুলনা অঞ্চলের নদ-নদী থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ৫০টি লাশ। ঢাকা-কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীতে নারী-শিশুসহ চার অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, “গুম কমলেও প্রতিনিয়ত লাশ পাওয়া যাচ্ছে। বুলেটবিদ্ধ না হলেও মৃতদেহের সংখ্যা বাড়া নতুন শঙ্কা।”

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানায়, জানুয়ারি–অক্টোবর পর্যন্ত ২৫৬টি মব সহিংসতায় মারা গেছে কমপক্ষে ১৪০ জন। রাজনৈতিক কর্মী থেকে চোর–ছিনতাইকারী—সবাইই এ বর্বরতার শিকার।

মানবাধিকার সংগঠক সাইদুর রহমান বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সংখ্যালঘু, দরগা–মাজার ও বাউলদের ওপর হামলায় মব একটি ভয়ংকর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।”

মানিকগঞ্জ আদালতপাড়ায় ‘বাউল জবাই’ধর্মী স্লোগান, কুমিল্লার একই গ্রামে চারটি মাজারে হামলা, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কবর খুঁড়ে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা— এসব ঘটনার কোনো কার্যকর প্রতিকার দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ মানবাধিকারকর্মীদের।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, গত ১৫ মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১১২ জনের। এমএসএফের হিসাবেও গত এক বছরে কারাগারে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৯ এবং পুলিশ হেফাজতে ২১ জন। গত বছর বগুড়া কারাগারে কয়েকদিনের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের চার নেতার মৃত্যু বিশেষ আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। নূর খান লিটন বলেন— “স্বৈরাচারের দীর্ঘ শাসনের কুফল ও ফ্যাসিবাদী মনন এখনো বিদ্যমান। রাজনৈতিক মামলায় বাণিজ্য, দখলদারি, বাউল সংস্কৃতিতে হামলা—সবই দেখায় দৃশ্যমান প্রতিরোধ অনুপস্থিত।” হিউম্যান রাইটস ওয়াচও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলেছে, রাজনৈতিক গ্রেপ্তার, মব সহিংসতা ও সাংবাদিক হয়রানি বেড়েছে। কাঠামোগত সংস্কারে অগ্রগতি নেই।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “গুম-খুনের মতো মারাত্মক লঙ্ঘনে আমরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি। গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদেও স্বাক্ষর করেছি। মানবাধিকার একটি সংস্কৃতি— একদিনে পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

তার আশা, পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার এ উদ্যোগগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।


সূত্র: বিবিসি বাংলা



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *