অপহরণ মামলায় জামিনে মুক্ত আসামিদের হুমকিতে ব্যবসায়ী পরিবার আতঙ্কিত

প্রকাশিত: 11:37 pm, January 17, 2026 | আপডেট: 11:37 pm,

অপহরণ মামলায় জামিনে মুক্ত আসামিদের হুমকিতে ব্যবসায়ী পরিবার আতঙ্কিত

আসামিদের জামিন বাতিল করে পুনরায় কারাগারে পাঠাতে পুলিশের জরুরি উদ্যোগ দাবি 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত অপহরণ মামলার ভুক্তভোগী—মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মানিত পরিচালক মোঃ সোহাগকে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করতে ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–৯৭১) দায়ের করা হয়েছে। জিডির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ জুন ২০২৫ তারিখে সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে আল আমিন ওরফে জিতুর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাঁকে অপহরণ করে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর এলাকায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসাঃ তানিয়া আহম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–১২(০৬)২৫, ধারা–৩৬৪/৩৪ দণ্ডবিধি)। মামলার তদন্তে পুলিশ ২ থেকে ৫ নম্বর আসামি—মোঃ সাকিব হোসেন, মোঃ কবির হালদার, মোঃ ছাহাদ এবং ইমরান হোসেন মোহনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ১ নম্বর আসামি আল আমিন ওরফে জিতুকে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে স্বীকার করেন।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়, গ্রেপ্তার এড়ানো ১ নম্বর আসামি আল আমিন ওরফে জিতু বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভুক্তভোগী ও তাঁর স্ত্রীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছে। এছাড়া জামিনে মুক্ত হয়ে আসা অন্য আসামিরাও তার ইন্ধনে মামলা প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগের দাবি, আসামিদের সহযোগীরা তাঁর ব্যবসায়িক ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, যার মাধ্যমে তাঁর সামাজিক সম্মান, ব্যবসায়িক সুনাম ও আর্থিক ক্ষতি করার অপচেষ্টা চলছে। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও মারাত্মক হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া জামিনের শর্তের সরাসরি লঙ্ঘন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে আসামিদের জামিন বাতিল করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর যথেষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে।
এ অবস্থায় জিডির আলোকে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, জামিন বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার যেন ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) জরুরি নির্দেশনা দেন—এমন দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *