আটলান্টিকে রুশ তেল ট্যাঙ্কার জব্দ: মার্কিন অভিযানে ব্রিটেনের সক্রিয় সহায়তা

প্রকাশিত: 10:57 pm, January 8, 2026 | আপডেট: 10:57 pm,

আটলান্টিকে রুশ তেল ট্যাঙ্কার জব্দ: মার্কিন অভিযানে ব্রিটেনের সক্রিয় সহায়তা
আটলান্টিকে রুশ তেল ট্যাঙ্কার জব্দ: মার্কিন অভিযানে ব্রিটেনের সক্রিয় সহায়তা

আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘বেলা-১’ জব্দ করতে মার্কিন মেরিন কমান্ডো বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা করেছে ব্রিটেনের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ তেলবাহী জাহাজে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য এই অভিযানে ‘সক্ষম ও কার্যকর সহায়তা’ প্রদান করেছে বলে জানানো হয়।

মার্কিন সেনাবাহিনী বুধবার ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহণে ব্যবহৃত ট্যাঙ্কার বেলা-১ জব্দ করে। এ সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে পাঠানো নৌবহরের পাহারাও ব্যর্থ হয়। একই দিনে ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে ‘সোফিয়া’ নামের আরেকটি তেলবাহী জাহাজও জব্দ করে মার্কিন বাহিনী।

ওয়াশিংটনের দাবি, দুটি জাহাজই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহণে জড়িত ছিল।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ড জানায়, আইসল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মধ্যবর্তী আটলান্টিক অঞ্চলে বেলা-১ ট্যাঙ্কারটিকে আটক করা হয়। অপরদিকে, মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সচিব ক্রিস্টি নোয়েম সোফিয়া জব্দের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

এই অভিযানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন অভিযানে সহায়তার অনুরোধ পাওয়ার পর যুক্তরাজ্য রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) নজরদারি বিমান এবং রয়্যাল নেভির সহায়ক জাহাজ ‘আরএফএ টাইডফোর্স’ মোতায়েন করে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সোমবার থেকেই আটলান্টিকে বেলা-১ ট্যাঙ্কারটির পিছু নেয় মার্কিন নৌবাহিনী। পরিস্থিতি জানতে পেরে মঙ্গলবার রাতে পুতিনের নির্দেশে ডুবোজাহাজ ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইসল্যান্ড উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ট্যাঙ্কারটিকে ঘিরে রাখে অন্তত দশটি মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার। তখন থেকেই পেন্টাগনের অভিযানের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা জানান, মস্কো বেলা-১ ট্যাঙ্কারের ওপর কোনো সামরিক হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিল।

একসময় ইরানের তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলা সরকার ট্যাঙ্কারটি ব্যবহার করছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি। গত ডিসেম্বরে ক্যারিবিয়ান সাগরে জাহাজটি জব্দের চেষ্টা করেছিল মার্কিন উপকূলরক্ষীরা। তখন ভেনেজুয়েলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায়।

সেই সময় জাহাজটিতে গায়নার পতাকা থাকলেও পরে তাতে রাশিয়ার পতাকা উত্তোলন করা হয়। সরাসরি বেলা-১-এর নাম উল্লেখ না করলেও মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, আটলান্টিক অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জাহাজ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একই অভিযোগে সোফিয়া জাহাজটিও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর।

সূত্র: বিবিসি



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *