আসন ভাগাভাগিতে জটিলতা: বিএনপির কাছে ২০০-র বেশি আসনের দাবি সমমনাদের

স্টাফ রিপোর্টারঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিএনপির কাছে আসন ছাড়ের তালিকা দিয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে মিত্রদলগুলোর দাবি করা আসনের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি দল কৌশলগত কারণে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেগুলো শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গেই জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে অংশ নিতে পারে। ফলে বিএনপির জন্য আসন বণ্টন একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কোন দলকে কত আসন ছাড় দেওয়া হবে। বিএনপি প্রাথমিকভাবে সমমনাদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০টি আসন ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতপার্থক্যের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মিত্রদের কত আসন ছাড়বে, সেটা আলোচনা ও বিবেচনার বিষয়। আমরা এমন আসনেই শরিকদের প্রার্থী দেব, যেসব আসনে জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।”
দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সাম্প্রতিক বৈঠকে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হয়। জানা গেছে, আগামী মাসের মধ্যেই বিএনপি ও সমমনাদের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান তারা। প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে।
সূত্রমতে, যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণফোরাম, লেবার পার্টি ও এনডিএম মিলে মোট ২১৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা বিএনপির কাছে জমা দিয়েছে।
এর মধ্যে—
-
গণতন্ত্র মঞ্চ ১৩৮টি
-
১২ দলীয় জোট ২১টি
-
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ৯টি
-
এলডিপি ১৩টি
-
জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ৫টি
-
গণফোরাম ১৫টি
-
লেবার পার্টি ৬টি
-
এনডিএম ১০টি আসনের তালিকা দিয়েছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষনেতা ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন,
“গণতন্ত্র মঞ্চ ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত। আমাদের প্রার্থী দেওয়ার মতো সক্ষমতা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। শিগগিরই ছোট আকারের তালিকা বিএনপির কাছে পাঠাব।”
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান,
“আমরা ৯ জনের তালিকা বিএনপির কাছে পাঠিয়েছি। আন্দোলনে আমরা বিএনপির পাশে ছিলাম, জেলজুলুমও সহ্য করেছি। এখন বিএনপির আমাদের মূল্যায়ন করার সময় এসেছে।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়নের আশ্বাস পেয়েছেন।
‘আসন ছাড়ে বিএনপির কিছুই থাকবে না’
বিএনপি সূত্রের ভাষ্য, এখনো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ ও আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এসব দলও যদি আসন ছাড়ের দাবি জানায়, তাহলে বিএনপির নিজস্ব আসন সংখ্যা অনেক কমে যেতে পারে।
২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের ৫৮টি আসন ছেড়েছিল বিএনপি—এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে ২২টি ও অন্যান্য দলকে ৩৬টি। এবার দলটি সর্বোচ্চ ৫০ আসনের বেশি ছাড় দিতে চায় না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী জোটে সমন্বয় ও আসন ভাগাভাগি হবে বিএনপির জন্য বড় পরীক্ষা। তফসিল ঘোষণার আগেই যদি আসন বণ্টনের সমাধান না হয়, তবে নির্বাচনী ঐক্য অটুট রাখা কঠিন হতে পারে।

