ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত: গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা, নেতৃত্ব সংকটে তেহরান

প্রকাশিত: 5:50 pm, March 1, 2026 | আপডেট: 5:50 pm,

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত: গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত: গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা, নেতৃত্ব সংকটে তেহরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা সমন্বয় ছিল বলে জানিয়েছেন অভিযান সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রেখেছিল।

সূত্র জানায়, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকে খামেনির উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়।

সিআইএর কাছ থেকে পাওয়া ‘অত্যন্ত নির্ভুল’ গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ইসরায়েল নিজেদের গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে চূড়ান্ত হামলার পরিকল্পনা নেয়। প্রথমে রাতের আঁধারে হামলার কথা থাকলেও বৈঠকের খবর পাওয়ার পর শনিবার সকালে অভিযান চালানো হয়।

ইসরায়েলি সময় ভোর ৬টার দিকে যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার সময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক চলছিল। খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে। হামলায় তিনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা রোববার নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় নিহত হয়েছেন—

  • রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি

  • মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর

ইসরায়েল আগেই তাঁদের হত্যার দাবি করেছিল।

এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “আজ সকালে তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এর একটি ছিল ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের বৈঠকস্থলে।” তিনি দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও ইসরায়েল এই অভিযানে ‘কৌশলগত চমক’ দিতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও সিআইএ আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে একই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগানো হয়। ওই সংঘাতের সময় খামেনি ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কীভাবে যোগাযোগ করতেন ও চলাফেরা করতেন—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর গতিবিধি অনুসরণ করা হয়।

হামলার পরবর্তী ধাপে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেসব স্থানেও আঘাত হানা হয়। যদিও শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন, তবে সূত্রগুলো বলছে—ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বড় একটি অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খামেনির নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন তাঁর উত্তরসূরি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু সামরিক নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *