কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল

প্রকাশিত: 10:21 pm, March 22, 2026 | আপডেট: 10:21 pm,

পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এখন ঈদের আনন্দে মুখর। পবিত্র ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল থেকেই দেশের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

ঈদের দিন শনিবার বিকেলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই পর্যটকরা নেমে পড়েন সৈকতে। আকাশজুড়ে রঙধনুর মায়াবী উপস্থিতি, মেঘ সরে যাওয়ার পর সোনালি সূর্যাস্ত এবং শীতল বাতাস মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়, যা ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানজুড়ে কিছুটা নিস্তব্ধ থাকলেও ঈদের ছুটি শুরু হতেই আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে সৈকত এলাকা। তাদের প্রত্যাশা, এবারের ঈদে প্রায় ১০ থেকে ১১ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে আসতে পারেন, যার ফলে প্রায় শতকোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় পর্যটকদের ভিড়। কেউ সমুদ্রস্নানে মেতে উঠেছেন, কেউ জেটস্কি, ঘোড়া কিংবা বাইক রাইডে উপভোগ করছেন সময়। নীল জলরাশি, বালুকাবেলা আর সমুদ্রের হাওয়ায় পর্যটকদের কাছে প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠছে আরও আনন্দময়।

ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমবার কক্সবাজারে এসে ঈদের আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, রাজশাহী থেকে আগত পর্যটকরা সমুদ্র, পাহাড় ও সবুজ প্রকৃতির সম্মিলনকে ‘স্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা’ বলে বর্ণনা করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি ও গোয়েন্দা টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে, যারা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।

এছাড়া লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল পতাকা দিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে, যাতে তারা নিরাপদে সমুদ্রস্নান করতে পারেন।

হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির নেতারা জানান, ঈদের পরবর্তী প্রায় ১০ দিন প্রতিদিন গড়ে এক লাখের বেশি পর্যটক আগমন করতে পারেন। এ সময়ে পর্যটন খাত থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হবে বলে আশা করছেন তারা।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, সার্বিক প্রস্তুতির ফলে পর্যটকরা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদের ছুটি উপভোগ করতে পারছেন।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর উৎসবের আমেজে ভরপুর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার—যেখানে প্রতিটি ঢেউ যেন বয়ে আনছে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের নতুন বার্তা।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *