কমিশনের পর কমিশন, প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি—জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ সরকার: আবু লায়েস মুন্না


বাংলাদেশ শ্রমিক মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না বলেছেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানের পরেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “গত এক বছরে আমরা দেখেছি কমিশনের পর কমিশন, প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি; কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, বেড়েছে মব জাস্টিস।”
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর: প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হতাশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক মুক্তিজোট এর কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মোঃ রাশেদুল ইসলাম খোকন।
আবু লায়েস মুন্না বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা ছিল গণহত্যার বিচার, আহতদের চিকিৎসা, নিহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ। কিন্তু এসবের বদলে আমরা দেখেছি সরকার মানবিক কড়িডোর অনুমোদন, মানবাধিকার কমিশনের অফিস অনুমোদন, এমনকি চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আরো ১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা দেশে প্রবেশ করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে তারা শুধু চট্টগ্রাম নয়, পঞ্চগড় থেকেও এনআইডির আবেদন করছে। এটি দেশের জন্য চরম হুমকি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের সমালোচনা করে আবু লায়েস মুন্না বলেন, “যে ছাত্র-জনতার রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আজকের সরকার ক্ষমতায়, তাদের এখন পর্যন্ত যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি। আহতদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিকিৎসা চাইতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনীতির মাধ্যমেই সম্ভব। বিচারপতি সায়েম, ইয়াজউদ্দীন, ফখরুদ্দীন বা জেনারেল মইন–উ–আহমেদের মতো ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি এ সরকারও করছে। তার ভাষায়, “রাজনীতি যখন রাজনীতিহীন হয়ে পড়ে, তখন দেশ মগের মুল্লুক হয়ে যায়। বর্তমানে আমরা তাই দেখছি।”
তবে সরকারের এক বছর পূর্তিতে নির্বাচন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, “তারুণ্যের ব্যাপক অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন উৎসবমুখর হবে এবং দেশ পুনর্গঠনের নতুন সূচনা হবে। আমরা প্রত্যাশা করছি—জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।”
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিজোটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল, উপদেষ্টা মোঃ ইমন বারিক, সৈয়দ নামর আলী শাহ ও যুব মুক্তিজোটের আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল আওয়াল। আলোচনায় অংশ নেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাহেল আহম্মেদ সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা এড. মোহাম্মদ ইউসুফ, মোঃ আওলাদ হোসেন, মোঃ শাহীনুর রহমান, আবু হাসান প্রধান, মোঃ মেহেদী হাসান, অধ্যাপক মোঃ আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রমিক মুক্তিজোট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব এস এম ইমরান আহসান।