কুড়িল বিশ্বরোডে ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি

১ম পর্ব
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কুড়িল বিশ্বরোডে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সিএনজি অটোরিকশা, ভাঙাচোরা প্রাইভেটকার, পিকআপ এবং বিআরটিসি পার্কিং কেন্দ্রিক এই অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ডুমনী পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েতে কীভাবে মোটরচালিত অটোরিকশা অবাধে চলাচল করছে। নিয়ম অনুযায়ী এক্সপ্রেসওয়েতে এসব যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের ছত্রছায়ায় এসব অটোরিকশা নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই নিষিদ্ধ যানবাহনগুলো এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ ও চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে, যা একদিকে সড়ক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
গ্লোবাল নিউজ-এর অনুসন্ধানী টিমের তথ্যমতে, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে অনুমোদনবিহীনভাবে মহানগর এলাকায় প্রবেশকারী সিএনজি অটোরিকশাগুলোর কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অবৈধ পার্কিং ও অননুমোদিত স্ট্যান্ড থেকে মাসে প্রায় এক লাখ টাকা এবং ভাঙাচোরা প্রাইভেটকার থেকে মাসিক প্রায় ৬০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অবৈধ লেনদেনের কারণে এলাকায় যানজট বেড়ে যাচ্ছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। নিয়ম ভঙ্গ করে চলাচলকারী যানবাহনগুলো নির্দ্বিধায় চলাচল করায় সাধারণ যাত্রী ও আইন মেনে চলা চালকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের অনিয়ম শুধু সড়ক ব্যবস্থাপনাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তারা অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

