কেরানীগঞ্জের কালিন্দীতে অবৈধ কেমিক্যাল কারখানা, স্টার কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির প্রতারণা—পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

১ম পর্ব
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নে অবৈধভাবে পরিচালিত স্টার কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, প্রতারণা ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজী মোহাম্মদ মোস্তাকিনের মালিকানাধীন এই কারখানায় ডাইং খাতের বিভিন্ন কেমিক্যাল তৈরি করে প্যাকেটে/কার্টুনে “Made in China”, “Made in Singapore” লিখে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে ক্রেতারা বিদেশি ব্র্যান্ড মনে করে এসব পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
বস্ত্র শিল্পের উদ্যোক্তা ও ডাইং কারখানার মালিকেরা জানিয়েছেন, স্টার কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির তৈরি নকল কেমিক্যাল ব্যবহার করে কাপড়ের রং দ্রুত নষ্ট হয়ে কাপড় জ্বলছে যাচ্ছে এবং কাপড়ের সামগ্রিক কোয়ালিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং ক্রেতাদের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাও কমে যাচ্ছে।
যেসব ব্যবসায়ী বৈধভাবে চীন ও সিঙ্গাপুর থেকে কেমিক্যাল আমদানি করে সরকারের ভ্যাট–ট্যাক্স প্রদান করে ব্যবসা করছেন, তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এই নকল কেমিক্যালের কারণে। বাজারে দামের প্রতিযোগিতায়ও দুর্বল হয়ে পড়ছেন বৈধ ব্যবসায়ীরা।
কারখানাটির কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই, তবুও বিপদজনক কেমিক্যাল প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কেমিক্যাল বর্জ্য নিকটবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার বর্জ্য আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
আরও ভয়াবহ বিষয় হলো—ফায়ার সার্ভিসের কোনো তথ্যেই নেই যে এখানে একটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি চলছে। দাহ্য ও বিস্ফোরক ধরনের কেমিক্যাল থাকলে যে কোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ বাস্তবতায় এই কারখানাটি প্রতিবেশীদের জন্য চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।
বৈধভাবে কেমিক্যাল আমদানিকারক, ব্যবসায়ী, পরিবেশকর্মী ও সাধারণ জনগণ যত দ্রুত সম্ভব ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইউএনও’র (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হলে এই অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে।
স্টার কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি অবৈধভাবে কেমিক্যাল তৈরি ও নকল পণ্যের লেবেল ব্যবহার করে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা, পরিবেশ দূষণ ও বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা জনভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে। কেরানীগঞ্জবাসী এবং বৈধ ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন—অবিলম্বে এই অবৈধ কারখানা বন্ধ করে মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে সরাসরি দরখাস্ত করে এই প্রতিষ্ঠানের সকল কাগজপত্র যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

