কোথায় উঠবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: 11:51 am, February 16, 2026 | আপডেট: 11:51 am,

কোথায় উঠবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী?
কোথায় উঠবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে—তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। অন্যদিকে বিরোধী দলে থাকছে  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহ তাদের জোটের সংসদ সদস্যরা।

আগামী মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শপথের পরপরই নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সরকারি বাসভবনে উঠবেন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকারি আবাসন প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নতুন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সমমর্যাদার ব্যক্তিদের জন্য মোট ৭১টি সরকারি বাংলো ও বাসা রয়েছে। এসব বাসা প্রস্তুতে তোড়জোড় চলছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন প্রস্তুতের বিষয়ে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় উঠবেন—সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, নতুন প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় উঠতে পারেন—এমন আলোচনা শোনা গেলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আবাসন পরিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাননি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রী কোন বাসভবনে উঠবেন তা এখনো জানানো হয়নি। সিদ্ধান্ত পেলে দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এদিকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসাসহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ ৭১টি বাসার প্রায় অর্ধেক বর্তমানে খালি রয়েছে এবং সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করলেই বসবাসযোগ্য হবে। বাকি বাসাগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা অবস্থান করছেন। তারা বাসা ছাড়লে সেগুলো নতুনদের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

তিনি আরও জানান, শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সরকারি বাসাসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার অধিকার সৃষ্টি হয়। কোনো কারণে বাসা দিতে বিলম্ব হলে পদমর্যাদা অনুযায়ী সরকারি ভাতা প্রদান করা হবে। বাসা বরাদ্দের জন্য সরকারের তিনটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের বাসা বরাদ্দ দেয়।

সূত্র জানায়, রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি, সংসদ ভবন এলাকা ও গুলশানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসা রয়েছে। এসব বাসা গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং বরাদ্দ দেয় সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।

এর মধ্যে মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর বাসাটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্দিষ্ট। অতীতে সেখানে বসবাস করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াশেখ হাসিনা। এবার ওই বাসায় উঠবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা ধীরে ধীরে তাদের সরকারি বাসভবন ছাড়তে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য নির্ধারিত বাসা দ্রুত বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তারা সরকারি বাসভবনে উঠতে পারেন।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *