গণহত্যা মামলার পলাতক আসামীর ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলে অনিয়ম

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়ার শিবগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা ও জুলাই গণহত্যা মামলার পলাতক আসামী এবি এম নাজমুল কাদের শাহজাহান চৌধুরী-এর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড-এর ঋণ পুনঃতফসিলকে ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক বগুড়া বড়গোলা শাখার অর্থায়নে নির্মিত আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড-এর ঋণের বর্তমান স্থিতি প্রায় ৩৭ কোটি টাকা, যা বর্তমানে খেলাপি (শ্রেণীকৃত)।
১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে শাহজাহান চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করেন। সূত্র অনুযায়ী (বিআরপিডি, ডিভিশন–১/সিআরএস/৯০২(৪)/২০২৫–১২৩৪৯, তারিখ: ২৩/১০/২০২৫), বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি অনুমোদন করে ইসলামী ব্যাংক বগুড়া বড়গোলা শাখায় প্রেরণ করে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সুবিধা শুধুমাত্র ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য। সেই হিসাবে আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড নীতিগতভাবে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক বিধিবহির্ভূতভাবে অনুমোদন প্রদান করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন (এসবি/এফআই/২০২৫/৭৭০(৩), তারিখ: ০৯/১০/২০২৫) অনুযায়ী, শাহজাহান চৌধুরী ও তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজু গত বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর ১৯ সেপ্টেম্বর স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। প্রতিবেদন অনুসারে, তাদের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জ থানায় মোট ৯টি হত্যা মামলা রয়েছে।
এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে অবহিত করে (সূত্র নং: বিআরপিডি, ডিভিশন–১ (সিআরএস–১)/৯০১/২০২৫–১৩৪৫৫, তারিখ: ২৩/১০/২০২৫)।
প্রশ্ন উঠেছে— একজন পলাতক আসামী হয়ে কীভাবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক হিসেবে তিনি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন? আইন অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক আসামীর স্বাক্ষরকৃত কোনো আবেদন বা কোম্পানির রেজুলেশন ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রহণ বা কার্যকর করতে পারে না।
অভিযোগ রয়েছে, ইসলামী ব্যাংক বগুড়া বড়গোলা শাখা বর্তমানে ওই ঋণটি ডাকযোগে, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রেরিত আবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে পুনঃতফসিলের পায়তারা করছে— যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। এ বিষয়ে জানতে ইসলামী ব্যাংক বগুড়া বড়গোলা শাখার ব্যবস্থাপক জনাব তৌহিদ রেজা-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক উভয় প্রতিষ্ঠানের নথিপত্রেই স্পষ্টভাবে পলাতক আসামীর তথ্য থাকলেও—
তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য কীভাবে নীতি সহায়তার অনুমোদন দেওয়া হলো—
সে প্রশ্ন এখন জনমনে গভীর উদ্বেগ ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।