গোয়েন্দা অভিযানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মারুফ আহম্মেদ শাহ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: 4:20 am, August 24, 2025 | আপডেট: 4:20 am,

গোয়েন্দা অভিযানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মারুফ আহম্মেদ শাহ গ্রেপ্তার

 

মোহাম্মদ বাদল: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ডেমরা রোডের মৃধাবাড়ী এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের যাত্রাবাড়ী থানা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহম্মেদ শাহ (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত সোমবার (১৮ আগস্ট ২০২৫) ভোরে চৌকস গোয়েন্দা টিম বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করে।

 

থানা সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২০ এপ্রিল ২০২৫ যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের গোপন বৈঠকের নেতৃত্ব দেন মারুফ আহম্মেদ শাহ। সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে পুলিশ দাবি করে। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর ৮/৯/১০/১২ ধারায় মামলা নং-৬০/২০২৫ দায়ের করা হয়। এ মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পুলিশের ভাষ্য, বৈঠকে উপস্থিত প্রায় ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যায়। এসময় দু’জনকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মারুফ আহম্মেদ শাহকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

 

মারুফের বিরুদ্ধে এর আগে মামলা নং-২৮৫/২০২৫ (তাং: ৮ এপ্রিল ২০২৫) দায়ের হয়। অভিযোগে বলা হয়, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি আন্দোলনরত এক ছাত্রকে গুলি করেন। এ ছাড়াও যাত্রাবাড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, প্রতারণা ও জবরদখলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন মারুফ আহম্মেদ শাহ। স্থানীয় সায়দাবাদ ট্রেড সেন্টার ভবনের মালিকপক্ষের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে একাধিক জিডি (নং-১১৪৯/১৪-২-২০২৪ ও ১৮০২/২৫-১২-২০২৪) দায়ের হয়।

 

এছাড়াও মারুফ প্রপার্টিজ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভূমিদস্যুতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জমির মালিকপক্ষ আদালতে দেওয়ানি মামলা (আরবিট্রেশন মিস কেস নং-৪৯৬/২০২৪) দায়ের করলে আদালত তার সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে তিনি আদেশ অমান্য করে ফ্ল্যাট বিক্রয় ও জবরদখল চালিয়ে যান।

 

গ্রেপ্তারের পর মারুফের দুই ভাই— শরিফ আহমেদ ও আরিফ আহমেদ— স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ বশির আহমেদ (সানি)-কে হুমকি ও দোষারোপ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ তথ্যের সত্যতা একটি গোয়েন্দা সূত্রও নিশ্চিত করেছে। সাংবাদিক সানি জানান, ২০১৮ সালে তার পিতার জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য মারুফের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মারুফ জমি না ছাড়ার পাশাপাশি ভয়ভীতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেন।

 

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পুরোনো মামলার ভিত্তিতেই মারুফ আহম্মেদ শাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, জমি দখল, প্রতারণা ও সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে প্রচলিত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *