গ্রীষ্মের ফল বর্ষায়! নওগাঁর কালো তরমুজ সারা দেশে সাড়া ফেলেছে

প্রকাশিত: 11:28 pm, August 9, 2025 | আপডেট: 11:28 pm,

সারাদেশ গ্রীষ্মের ফল বর্ষায়! নওগাঁয় সাড়া ফেলেছে কালো তরমুজ
গ্রীষ্মের ফল বর্ষায়! নওগাঁর কালো তরমুজ সারা দেশে সাড়া ফেলেছে

কৃষি ডেস্কঃ

তরমুজ মানেই গ্রীষ্মের দুপুর আর ঠান্ডা, মিষ্টি স্বাদের একফালি ফল। তবে এবার নওগাঁয় সেই তরমুজ মিলছে বর্ষাতেই। জেলার রাণীনগর ও সদর উপজেলায় কৃষকরা প্রথমবারের মতো উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ‘মার্সেলো’ জাতের কালো তরমুজ চাষ করে সাড়া ফেলেছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের ‘আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী’ প্রকল্পের আওতায় রাণীনগরের কাশিমপুর ও সদরের বর্ষাইল ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় এক একর জমিতে এই তরমুজের চাষ হচ্ছে। মাচা পদ্ধতিতে ঝুলছে কালো রঙের লম্বাটে আকৃতির তরমুজ, যা দেখতে যেমন নজরকাড়া, স্বাদেও তেমনি মিষ্টি। প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে বহু কৃষক এই ক্ষেত দেখতে আসছেন, যা কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্যম তৈরি করেছে।

কাশিমপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, মার্সেলো জাতটি ভাইরাস সহনশীল এবং মাত্র ৬০–৬৫ দিনের মধ্যেই ফসল তোলা যায়। বর্ষাকালে প্রতিটি তরমুজের গড় ওজন হয় ৩–৫ কেজি, আর শীতকালে মাটিতে চাষ করলে ফলন আরও বেড়ে যায়। মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে ফলন ও গুণগত মান দুটোই উন্নত হয়।

কাশিমপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক নিরাঞ্জন চন্দ্র জানান, তিনি ২৫ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করেছেন, কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ছাড়াই। পাশাপাশি তিনি উচ্চ ফলনশীল শসাও উৎপাদন করছেন। বাজারে কেজি প্রতি ৫০–৬০ টাকা দাম পেলে এটি লাভজনক হবে বলে আশা করছেন তিনি।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মোস্তাকিমা খাতুন চৈতি বলেন, “কৃষি বিভাগ এখন গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে এসে আধুনিক, লাভজনক ও বিষমুক্ত কৃষি চর্চায় কৃষকদের উৎসাহিত করছে। মার্সেলো জাতের তরমুজ তারই একটি সফল উদাহরণ। ভবিষ্যতেও এমন উদ্ভাবনী ও লাভজনক ফসল চাষে কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *