জাতীয় সংসদ নির্বাচন: তফশিল কবে ঘোষণা করবে তা আগেই জানাতে পারে নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে সম্ভাব্য তারিখ জানানো নিয়ে ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার কমিশনে অনুষ্ঠিত সভায় তফশিল ঘোষণার সময়সূচি আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, চার কমিশনার ও সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইসির উচ্চপদস্থ সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই তফশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ৪, ৭ ও ৮ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে ৫, ৭, ৮ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি রোববারকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে। পূর্বে ১৯৭৯, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনও রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছিল, ফলে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ভোটারদের অংশগ্রহণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়, কারণ গণভোটের অধ্যাদেশ পাস হয়নি। অধ্যাদেশ পাওয়ার পর তফশিল ও ভোটের তারিখ নির্ধারণে গণভোট বিষয়টিও বিবেচনায় নেবে ইসি।
বৈঠকে নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তফশিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘন, সংঘাত ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর জোর দেওয়া হয়। তফশিল ঘোষণার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয়ের জন্য ইসি ২৭ নভেম্বর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি প্রশাসনিক বৈঠক, যেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ২২ জন সচিব ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা অংশ নেবেন। সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, অনেকেই তফশিল ঘোষণার তারিখ জানতে চান, বিষয়টি তিনি কমিশনকে অবহিত করেছেন, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

