ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস


নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের হল কমিটি ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। রোকেয়া হলসহ একাধিক ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরাও তালা ভেঙে মিছিলে যোগ দেন। পরে রাজু ভাস্কর্যে একত্র হয়ে ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের’ দাবিতে অবস্থান নেন তারা।
উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান রাতেই ঘোষণা দেন, আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি চলবে না। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বৈঠকে গত বছরের ১৭ জুলাই নেওয়া ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা বৈঠকে অংশ নেন। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উপায় এবং শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিদাওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। শিগগিরই ক্যাম্পাসে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও বৈঠক করবে প্রশাসন।
এর আগে শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হলে ৫৯৩ জনকে নিয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ কমিটিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতি করা শিক্ষার্থীরাও পদ পেয়েছেন। শিক্ষার্থীরা এটিকে ‘জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেন। আন্দোলনের চাপের মুখে ঘোষণার ১৪ ঘণ্টার মধ্যে চারটি হল কমিটির ছয় নেতাকে তথ্য গোপনের অভিযোগে অব্যাহতি দেয় ছাত্রদল।
এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন অভিযোগ করেন, “আসন্ন ডাকসু নির্বাচন বানচালের জন্য মব তৈরি করে হলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা হচ্ছে।” অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাবি সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে হলে রাজনীতি বন্ধের পক্ষে। তবে বাম সংগঠনগুলো হলে কমিটি করলেও প্রশ্ন তোলা হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, শিবির নেতা-কর্মীরা শৃঙ্খলা কমিটি বা ব্যাচ প্রতিনিধির নামে হলে ‘ছায়াপ্রশাসন’ চালাচ্ছে এবং অনলাইন ভোটে কারচুপি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি হল কর্তৃপক্ষ নীতিমালা অনুযায়ী ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে।