ঢাকা রেশনিংয়ের সাবেক এআরও নাইয়া রানুর অপকাণ্ডে তোলপাড় খাদ্য অধিদপ্তর

প্রকাশিত: 11:22 am, December 28, 2025 | আপডেট: 11:22 am,

ঢাকা রেশনিংয়ের সাবেক এআরও নাইয়া রানুর অপকাণ্ডে তোলপাড় খাদ্য অধিদপ্তর

প্রতিবেদক মোঃ বাদল: ঢাকা রেশনিং বিভাগের সাবেক এরিয়া রেশনিং অফিসার (এআরও) নাইয়া রানুর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট অফিসপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সূত্রে জানা যায়, ঢাকা রেশনিং ডি-২ এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সরকারি চাকরির প্রভাব খাটিয়ে নাইয়া রানু নিজে ও তার পরিবার বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার ছোট ভাই এস এম হামিদকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঢাকা রেশনিং বিভাগে তদারকি দায়িত্বে নিয়োগ দেন।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েক মাস আগে ডি-২ এলাকার মিলব্যারাক গুদারাঘাট এলাকায় ট্রাক সেল সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিক মোঃ বাদল একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

 

ওই প্রতিবেদনের পরপরই অফিস কর্তৃপক্ষ এস এম হামিদকে নৈশ প্রহরীর দায়িত্বে সরিয়ে দেয়। তবে বড় বোন নাইয়া রানুর প্রভাব ও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এস এম হামিদকে পুনরায় তার পূর্বের অবস্থানে বহাল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অন্যদিকে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে আইইবি রমনা ঢাকায় মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওএমএস ডিলার নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত লটারি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত লটারিতে ঢাকা রেশনিংয়ের সাবেক এআরও নাইয়া রানুর স্বামী মোর্শেদ মাহমুদ ডিলার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় খাদ্য অধিদপ্তর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

পরবর্তীতে গত ২ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ঢাকা রেশনিং প্রধান নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে ওএমএস ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে মোর্শেদ মাহমুদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে মেসার্স মা বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ, ঠিকানা: নারিন্দা লেন, ঢাকা সদর-১১০০, গেন্ডারিয়া।

 

তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, উক্ত ঠিকানায় উল্লিখিত নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

আইন অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিবারের সদস্যকে ওএমএস ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে সাবেক এআরও নাইয়া রানুর যোগসাজশে তার স্বামীর নামে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা স্পষ্টতই আইনবহির্ভূত।

 

এ বিষয়ে জানতে ডিলার মোর্শেদ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, সাবেক এআরও নাইয়া রানুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি “ব্যস্ত আছি” বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

এছাড়া বিষয়টি জানতে ঢাকা রেশনিং বিভাগের প্রধান নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনিও কল রিসিভ করেননি।

 

উল্লেখ্য, ঢাকা রেশনিংয়ের সাবেক এআরও নাইয়া রানু বর্তমানে গাজীপুর খাদ্য অফিসে কর্মরত রয়েছেন।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *