তদারকি কর্মকর্তা ফারহানা পারভীনের আর্থিক লেনদেনে ওএমএস কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশিত: 4:10 pm, September 28, 2025 | আপডেট: 4:10 pm,

তদারকি কর্মকর্তা ফারহানা পারভীনের আর্থিক লেনদেনে ওএমএস কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার: খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখের (স্মারক নং ২৮৪) এবং খাদ্য অধিদপ্তরের একই তারিখের (স্মারক নং ৮৪৫) নির্দেশনার আলোকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র (ওএমএস কেন্দ্র) থেকে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রয় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ও ২৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

 

তবে এই উদ্যোগের আড়ালে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। জানা গেছে, ঢাকার গেন্ডারিয়ার ঢালকানগরের একতা হাউজিংয়ের, আলমগঞ্জ রোডের মিলব্যারাকের এবং আরো একটি হচ্ছে গেন্ডারিয়ার ঢালকানগর লেনের ছাপড়া মসজিদ রোডের বিক্রয় কেন্দ্র। এই তিনটি বিক্রয় কেন্দ্রের প্রত্যেককে দুদিনের জন্য ২ টন চাল ও ২ টন আটা বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়। বরাদ্দের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ ও ২৮ সেপ্টেম্বর।

 

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই তিনটি বিক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক ফারহানা পারভীনকে প্রতিটি দোকানের তদারকি/ পরিদর্শক খাতায় স্বাক্ষর দেওয়ার বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডিলারদের নিয়োগকৃত বিক্রয়কর্মীরা অভিযোগ করেছেন—তদারকি খাতায় স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে আর্থিক লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হয়।

 

একজন ডিলারের নিযুক্ত বিক্রয় কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি দামে চাল আটা বিক্রি করার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু খাদ্য পরিদর্শক স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে আর্থিক দাবি জানানো হয়।

 

ডিলাররা দাবি করেন, অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আর্থিক দাবির অভিযোগ থাকায় সরকার ঘোষিত দামে চাল-আটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

ডিলাররা অনেক সময় এ টাকার ক্ষতিপূরণ তুলতে নির্ধারিত পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে না দিয়ে বেশি দামে বিভিন্ন মুদি দোকান বা খোলা বাজারে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবার, যাদের জন্য ওএমএস কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

 

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, একজন কর্মকর্তাকে একসাথে একাধিক বিক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই এই অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

গরিব মানুষের জন্য চালু হওয়া ওএমএস কার্যক্রমকে ঘিরে এমন অভিযোগ সরকারের মহৎ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রাজধানীর জনগণের আস্থা নষ্ট হবে, আর প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবেন।

 

এ ব্যাপারে খাদ্য পরিদর্শক ফারহানা পারভীনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার নামে এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোন ডিলারের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করি না।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *