তৃণমূলের সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে মীর শাহে আলম

দীর্ঘ তিন দশক পর বগুড়া জেলা থেকে আবারও একজন জনপ্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলাজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচিত মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে বগুড়া জেলা মন্ত্রিসভার প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত ছিল। সেই শূন্যতা পূরণ করলেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা সংগ্রামী নেতা মীর শাহে আলম।
মীর শাহে আলম বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি মানুষের পাশে থেকে কাজ করে গেছেন। ১৯৯৭ সালে তরুণ বয়সে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্বের যাত্রা শুরু করেন। পরে ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি বিপুল জনসমর্থন লাভ করেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। এই বিশাল ব্যবধান শিবগঞ্জবাসীর আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব বলেন, “মীর শাহে আলম তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং মাটি ও মানুষের নেতা। নানা ষড়যন্ত্র ও কালোটাকার প্রভাব উপেক্ষা করে জনগণ তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন।”
তার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণে শিবগঞ্জসহ পুরো বগুড়া জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আশা করছেন, তাঁর নেতৃত্বে শিবগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসবে।
স্থানীয়দের মতে, মীর শাহে আলমের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি শিবগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তব রূপ। একজন ত্যাগী ও জনবান্ধব নেতার হাত ধরে নতুন করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বগুড়া-২ আসন—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।