দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিপ্লব: মহাপরিচালক আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বে খাদ্য অধিদপ্তরের ঐতিহাসিক সাফল্য

প্রকাশিত: 8:16 pm, October 29, 2025 | আপডেট: 8:16 pm,

দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিপ্লব: মহাপরিচালক আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বে খাদ্য অধিদপ্তরের ঐতিহাসিক সাফল্য

মোঃ রাসেল কবির:

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা সম্প্রসারণ এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্তর অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। মহাপরিচালক মোঃ আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবির–এর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সৎ প্রশাসন ও নিষ্ঠাবান কর্মদক্ষতার ফলেই খাদ্য অধিদপ্তর আজ একটি আধুনিক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় খাদ্য অধিদপ্তর উপজেলা পর্যায়ে ৭৬৬টি দোকানের মাধ্যমে প্রতিদিন ১,০০০ কেজি করে আটা বিক্রয়ের কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে দোকানে নির্ধারিত দরে খোলা বাজারে আটা বিক্রয় করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে জনগণ সাশ্রয়ী দামে খাদ্যপণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছে এবং বাজারে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধ সম্ভব হয়েছে।

দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি” এখন আরও সম্প্রসারিত ও ডিজিটালাইজড। পূর্বে ৫ মাসের পরিবর্তে এখন ৬ মাস (আগস্ট–নভেম্বর এবং মার্চ–এপ্রিল) চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই কর্মসূচির জন্য ১০ লাখ মেট্রিক টন চালের বাজেট সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ৫৩ লাখে উন্নীত করা হয়েছে, এবং আরও ২ লাখ নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। উপকারভোগীদের কাছে এসএমএসের মাধ্যমে চাল উত্তোলনের তথ্য পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের Foodgrain License Digitalization Software (FSMMS) এখন অনলাইনেই লাইসেন্স নবায়ন ও আবেদন গ্রহণ করছে। এতে অতীতের জটিলতা ও অনিয়মের সুযোগ রুদ্ধ হয়েছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্য ব্যবস্থাপনা এখন আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ।

অভ্যন্তরীণ সংগ্রহে ঐতিহাসিক সাফল্য দেখিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের এই মহাপরিচালক। ২০২৫ সালে বোরো মৌসুমে ধান, চাল ও গম সংগ্রহে রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে—
ধান সংগ্রহ: ৩,৭৬,৯৪২ মেট্রিক টন (লক্ষ্যমাত্রার ১০০%), সিদ্ধ চাল সংগ্রহ: ১৪,০৬,৬০৪ মেট্রিক টন (লক্ষ্যমাত্রার ১০০%), আতপ চাল সংগ্রহ: ৫১,৩০৭ মেট্রিক টন (লক্ষ্যমাত্রার ১০০%) এই অর্জন দেশের খাদ্য মজুত সক্ষমতাকে আরও মজবুত করেছে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় বৈদেশিক সংগ্রহেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অর্জন।২০২৪–২৫ অর্থবছরে— ৮.৫০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি সম্পন্ন হয়েছে, ২৫ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, আরও ৪.৪ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির কাজ চলমান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ২ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন। এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের খাদ্য মজুত সক্ষমতা নিরাপদ পর্যায়ে রয়েছে, যা সম্ভাব্য দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতেও খাদ্য ঘাটতি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবির একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসিত। তার সততা, দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় এসেছে স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। দেশের প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তা পর্যন্ত আজ তার উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে। খোলা বাজার বিক্রয়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর সংগ্রহনীতি—সব মিলিয়ে তিনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তবে এই সাফল্যে ঈর্ষান্বিত কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও হলুদ সাংবাদিক নানা অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে মহাপরিচালকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব ভিত্তিহীন গুজবে তিনি বিচলিত নন। বরং তিনি দৃঢ়চিত্তে দেশের জনগণের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার কাজে অবিচল আছেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এই সাফল্য প্রমাণ করে, সততা, দক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটলে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানও জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে। মহাপরিচালক মোঃ আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন খাদ্য ব্যবস্থাপনায় একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলেছে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *