নারায়ণগঞ্জে লেক থেকে যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মূল আসামি লিমন গ্রেফতার

জেসমিন আক্তার রোদেলা: নারায়ণগঞ্জের জিমখানা সংলগ্ন লেক থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার অন্যতম আসামি লিমনকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই “বাংলাদেশ আমার অহংকার” স্লোগানকে সামনে রেখে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, মাদক উদ্ধারসহ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১ ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রমজান (২৩) কয়েক বছর আগে বিয়ে করে বন্দর থানায় বসবাস করতেন। ব্যবসায়িক কারণে জিমখানা এলাকার তানভীর, শাহ আলম বাবু @ ছোট বাবু, জাহিদ, নাদিম ও লিমনসহ ১০-১২ জনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। এক পর্যায়ে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে রমজানকে বিভিন্ন সময়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভিকটিম এসব ঘটনা লিমনের মাকে জানিয়েছিলেন।
গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২টার দিকে রমজান মন্ডল পাড়া ব্রিজের পাশে একটি চায়ের দোকানে গেলেও ফেরেননি। পরদিন গভীর রাতে স্থানীয় জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন লেকের পানিতে ভাসমান অবস্থায় একটি অজ্ঞাত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে নিহত রমজানের মা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারেন লেক থেকে উদ্ধার করা লাশটি তাঁর ছেলের। এ ঘটনায় তিনি লিমনসহ আরও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর র্যাব-১১ দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ নভেম্বর রাত ৮টায় র্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ সদর থানার জিমখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মোঃ লিমন হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় মোট অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে বলেও জানায় র্যাব।
গ্রেফতারকৃত লিমনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

