বাংলাদেশে ইলন মাস্কের স্পেস এক্সের ‘স্টারলিংক’: প্রযুক্তির এক নতুন মাত্রা


প্রযুক্তি ডেস্ক:
সম্প্রতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ স্টারলিংককে দেশে কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এরই মধ্যে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা ৯০ দিনের মধ্যে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। স্টারলিংক মূলত পৃথিবীর কক্ষপথে হাজারের ওপর স্যাটেলাইট বসিয়ে একটি জালের মতো কাভারেজ তৈরি করেছে, যা সরাসরি গ্রাহকের ঘরে ইনস্টল করা একটি ছোট ডিশের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। এটি ভূ-ভিত্তিক ফাইবার অপটিক বা মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে দেশের যে এলাকা এখনো ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যেমন- পার্বত্য চট্টগ্রাম, চরাঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল বা সীমান্তবর্তী গ্রাম, সেখানেও এই সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে। উন্নত দেশগুলোতে স্টারলিংকের কার্যকারিতা প্রমাণিত। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন বা আফ্রিকার রুক্ষ অঞ্চলগুলোতেও স্টারলিংক নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশে স্টারলিংকের আগমন নিঃসন্দেহে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের বার্তা।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ২০০-এর বেশি আইএসপি (ISP) কোম্পানি রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক। যারা মোবাইল ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে থাকে, এদের একটি বৃহৎ অংশের ব্যবসা নগরভিত্তিক এবং ইন্টারনেট কাঠামো নির্মাণে ফাইবার অপটিক ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। স্টারলিংক যদি সরাসরি গ্রাহকের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়, তাহলে এই মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে। বিশেষ করে যারা শুধু ‘ইন্টারনেট সংযোগ’ প্রদান করে, তারা চাপে পড়তে পারে। বড় প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কি টিকে থাকতে পারবে এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মুখে?