বিএনপির সঙ্গে বিচ্ছেদ, মান্না বললেন, আগে রাজনীতি, পরে মন্ত্রিত্ব

প্রকাশিত: 10:49 pm, January 21, 2026 | আপডেট: 10:49 pm,

বিএনপির সঙ্গে বিচ্ছেদ, মান্না বললেন, আগে রাজনীতি, পরে মন্ত্রিত্ব
বিএনপির সঙ্গে বিচ্ছেদ, মান্না বললেন, আগে রাজনীতি, পরে মন্ত্রিত্ব

বিএনপির সঙ্গে বিচ্ছেদ, এককভাবে নির্বাচনে নামছে নাগরিক ঐক্য

শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটল মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের। আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাগরিক ঐক্য জানায়, দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ নিয়ে তারা ১১টি আসনে প্রার্থী দেবে।

দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ (বৃহত্তর উত্তরা) ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নির্বাচন করবেন। মঙ্গলবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্য এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

নাগরিক ঐক্য ‘বদলে দাও বাংলাদেশ’—এই স্লোগান সামনে রেখে ভোটের মাঠে নামছে। মান্না ছাড়াও দলের আরও নয়জন নেতা বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁদের মধ্যে রংপুর-৫ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব আনোয়ার, জামালপুর-৪ আসনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হাসান, পাবনা-৪ আসনে অর্থবিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ রানু প্রার্থী হয়েছেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৯ আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্বপন মজুমদার, চাঁদপুর-২ আসনে এনামুল হক, কুড়িগ্রাম-২ আসনে মেজর (অব.) আব্দুস সালাম, রাজশাহী-২ আসনে মোহাম্মদ সামছুল আলম এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনে মোহাম্মদ রেজাউল করিম নির্বাচনে অংশ নেবেন।

গত ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে ১০ জন নেতার সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা জানিয়ে বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ঘোষণা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে বিএনপি ওই আসনে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা শাহে আলমকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দেয়।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মান্না ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও সেখানেও বিএনপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রার্থী করে। ফলে দুই আসনেই বিএনপি ও নাগরিক ঐক্যের প্রার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন,“বিএনপি আমাকে একদিকে সমর্থন দিল, আবার একই আসনে প্রার্থীও দিল। পরে ঋণখেলাপিসহ নানা অজুহাত শোনা গেল, কিন্তু প্রকৃত কারণ আজও স্পষ্ট নয়।” এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মান্নাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়। মান্নার দাবি, তাঁকে নির্বাচন না করে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন,“আমাকে বলা হয়েছিল নির্বাচন না করলে মন্ত্রী বানানো হবে। আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি—আগে রাজনীতি, পরে মন্ত্রিত্ব। নির্বাচনের বাইরে আমি যাব না।” মঙ্গলবার রাতে উত্তরার মুগ্ধ মঞ্চে এক সমাবেশে মান্না বলেন, “মন্ত্রী হওয়ার আশ্বাস দিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে বলা মানে ভিক্ষা দেওয়ার মতো। আমি সেটা গ্রহণ করব না।”

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০১৩ সালের পর থেকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের ঘনিষ্ঠতা দৃশ্যমান ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে নাগরিক ঐক্য পাঁচটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে। পরে গণতন্ত্র মঞ্চসহ যুগপৎ আন্দোলনেও বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল দলটি। তবে সর্বশেষ আসন সমঝোতায় প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আপাতত ইতি টানল নাগরিক ঐক্য। একই কারণে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডিও এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *