ভিসা ও বাণিজ্যে নতুন গতি: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিকের পথে

প্রকাশিত: 5:53 pm, March 2, 2026 | আপডেট: 5:53 pm,

ভিসা ও বাণিজ্যে নতুন গতি: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
ভিসা ও বাণিজ্যে নতুন গতি: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিকের পথে

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। সোমবার (২ মার্চ) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির–এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ, স্থলবন্দর ও বর্ডার হাট পুনরায় চালু এবং ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

প্রণয় কুমার ভার্মা বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে।”

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতে এসেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে বেশ কয়েকটি স্থলবন্দর ও বর্ডার হাট বন্ধ রয়েছে, যা বাণিজ্য সম্প্রসারণের স্বার্থে শিগগিরই চালু করা হবে। তবে বৈঠকে ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

এর আগে রোববার (১ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সচিবালয়ে এক বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করা হবে।

সেই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো পুনরায় চালু করা এবং ভিসা প্রদানের হার বাড়ানোর অনুরোধ জানান। জবাবে হাইকমিশনার বলেন, “আমরা পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দিচ্ছি। তবে গত দেড় বছরে সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা সেন্টারগুলো বন্ধ ছিল এবং ভিসা দেওয়ার হার কম ছিল।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভারতীয় ভিসার আবেদন অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। পরে মন্ত্রী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নয়।” তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুই দেশ সম্পর্ককে নতুনভাবে নবায়ন করতে চায় এবং অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে শক্তির জায়গা হিসেবে দেখতে চায়।

তিনি সীমান্ত হত্যার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে হাইকমিশনার জানান, ভারতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো উন্নত মানের এবং আইটিইসি প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–কে ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধে, কাউন্সেলর অভিজিৎ সপ্তর্ষি, প্রথম সচিব অ্যান মেরি জর্জ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং বাণিজ্যিক ও জনগণভিত্তিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *